“নতুন রাজনীতি নাকি পুরনো বিদ্বেষের পুনরাবৃত্তি?” — ইসরাক হোসেনের পোস্টে রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নবিদ্ধ চিত্র
ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৫ |
রাজনৈতিক শালীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও আদর্শিক ভিন্নমতকে সহনশীলভাবে মেনে নেওয়ার যে আশা নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন ধারার রাজনীতির দিকে তাকিয়ে ছিল, তা যেন ধুলোয় লুটিয়ে পড়ছে। সম্প্রতি সাদেক হোসেন খোকার পুত্র ও বিএনপির নেতা ইসরাক হোসেন নিজের ফেসবুক পোস্টে এক তীব্র নৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করেছেন—যা সামাজিক মাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে।
ইসরাক স্পষ্টভাবে লিখেছেন,
“নাম ধরে নতুন দলের ছাত্রনেতাদের সমালোচনার জবাব শুরু থেকেই দিতে চাইনি। কারণ, আমি চেয়েছিলাম রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ভদ্রতার একটি ন্যূনতম মানদণ্ড স্থাপিত হোক।”
তিনি চান নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকেরা শিখুক—কীভাবে ভিন্নমত পোষণ করেও সম্মান ও শালীনতা বজায় রাখা যায়। কিন্তু, হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “তাদের অনেকেই বারবার রাজনৈতিক শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।”
ইসরাক তুলে ধরেন, শেখ হাসিনার আমলে তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা ও হামলার শিকার হয়েছিলেন। যুবলীগের সেক্রেটারি নিখিল—যার অতীত নিয়ে সমাজে নানা বিতর্ক—তাকেও ছাড় দেয়নি। তার ভাষায়,
“সে পর্যন্ত আমার মৃত বাবাকে নিয়ে কটূক্তি করেছিল।”
আর আজ, একই আচরণ নতুন রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপি-এর নেতাদের দিক থেকেও আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির এক যুগ্ম আহ্বায়ক আরও নোংরা ভাষায় তার প্রয়াত পিতাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণ করেছে। তবে ইসরাক এর জবাবে কোনো প্রতিশোধমূলক ভাষা ব্যবহার না করে মৌন থাকেন, কারণ তার মতে,
“রাজনীতি প্রতিহিংসার নামে পারিবারিক অবমাননার মঞ্চ হতে পারে না।”
তবে তিনি স্বীকার করেন, জনসাধারণ মুখ খোলেনি—কারণ এ অপমান শুধু এক ব্যক্তিকে নয়, বরং এটি “গভীর নৈতিক অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ।”
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে ইসরাক চিহ্নিত করেন এনসিপি’র নেতৃত্বের ভূমিকা। তার ভাষায়,
“সময়ের সাথে সাথে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে কোনো সংশোধন আসেনি—বরং উল্টো তারা দিন দিন আরও ঔদ্ধত্যপূর্ণ, কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষময় ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছে।”
এই মন্তব্য শুধু কিছু নেতার আচরণ নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলেই আত্মপ্রকাশ করা এক গোষ্ঠীর মূলনৈতিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাক হোসেনের এই পোস্ট বর্তমান রাজনৈতিক ধারার ‘মরাল ক্যাপিটাল’-এর অভাব স্পষ্ট করে। যখন ‘নতুন রাজনীতি’র নামে সুশৃঙ্খল ও আদর্শিক আন্দোলনের কথা বলা হয়, তখনই নেতাদের কুরুচিকর ভাষা ও বিদ্বেষমূলক আচরণ সেই চেষ্টাকে ব্যর্থ করে তোলে।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্টটি ঘিরে সমর্থন ও প্রতিবাদের ঢেউ বইছে। কেউ ইসরাকের সহনশীলতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ নব্য রাজনৈতিক সংগঠনের নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।
ইসরাক হোসেনের পোস্টের শেষ কথাটিই যেন গোটা বিতর্কের সারকথা তুলে ধরে:
“এই যদি হয় নতুন রাজনৈতিক চর্চা, তবে প্রশ্ন থেকে যায়—নতুন বন্দোবস্তটা কোথায়?”
রাজনীতি যদি মানুষের মনন, নৈতিকতা এবং পারিবারিক মর্যাদাকে পদদলিত করে এগোতে চায়—তাহলে সেটা নতুন পথ নয়, বরং পুরনো হিংস্রতা ও অবক্ষয়েরই পুনরাবৃত্তি। আজ যে প্রশ্নটি ওঠে, তা কেবল ইসরাকের নয়—সমস্ত দেশের তরুণ ভোটার ও চিন্তাশীল নাগরিকদের: নতুন বাংলাদেশ গঠনের দায়িত্ব কি এমন অসভ্যতার হাতে সঁপে দেওয়া হবে?
তথ্যসূত্র: ইসরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট, ১৯ জুলাই ২০২৫।
(সমস্ত তথ্য ও বক্তব্য সরাসরি উক্ত পোস্ট থেকে সংগ্রহীত।)