“দুর্নীতিমুক্ত দেবিদ্বার গড়ার প্রত্যয়: বৈষম্যহীন সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত”
মো. শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার
২৮জুন ২০২৫
দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেবিদ্বার গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এক অনন্য পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা মিলনায়তনে। এ সভায় বক্তারা দেবিদ্বারকে একটি আধুনিক, কৃষিভিত্তিক, শিল্পোন্নত এবং আইনের শাসনসম্পন্ন মডেল উপজেলায় পরিণত করার সংকল্প ব্যক্ত করেন।
সভার শুরুতেই মিলনায়তন পরিপূর্ণ হয়ে উঠে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে, বক্তারা বলেন,,দেবিদ্বারকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।”
সভায় বক্তারা যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন, তা হলো:
সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঘুষ, লেনদেন ও দলীয় প্রভাব বন্ধে কড়া নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার।
ধনী-গরিব, ক্ষমতাশালী ও প্রান্তিক মানুষের মাঝে সমতা রক্ষায় সমাজের সকল স্তরে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার তাগিদ।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা, নারী উদ্যোক্তা উৎসাহ, এবং স্থানীয় যুব সমাজের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা।
কৃষকদের জন্য সার, বীজ, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা সহজলভ্য করা, পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় টেকসই কৃষি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন।
দেবিদ্বারে পরিবেশবান্ধব শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা এবং স্থানীয় উৎপাদিত পণ্যের জন্য বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন।
বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে নজরদারি। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাঝে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা এবং সকলের জন্য সমান বিচার নিশ্চিতকরণ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মো. কামরুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উন্নয়নকর্মী মো. শওকত হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল লতিফ, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক রাশেদা পারভীন, কৃষক নেতা মিজানুর রহমান, এবং যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত অনেকেই তাদের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন,
“দেবিদ্বার উন্নয়নের মূল ধারা থেকে বহু বছর পিছিয়ে ছিল। এখন সময় এসেছে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাওয়ার।”
এই পরিচিতি সভা যেন শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন না থেকে যায়, তা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করতে হবে। জনগণ এখন সচেতন, তারা উন্নয়ন ও ন্যায়ের সমাজ চায়— যেখানে সুযোগ থাকবে সকলের জন্য, থাকবে না কোনো পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য।