রিপোর্টার: জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া শুধু একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীই নন, তিনি গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক অদম্য প্রতীক। তাঁর বহুবার উচ্চারিত একটি বাণী— “দলের সাথে থেকে দেশের স্বার্থই বড়”—আজও রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এই বাণী কেবল দলীয় শৃঙ্খলার কথা বলে না, বরং দেশের বৃহত্তর কল্যাণকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়ার আহ্বান জানায়।
বেগম খালেদা জিয়া বারবার প্রমাণ করেছেন যে ব্যক্তিগত বা দলীয় সুবিধার চেয়ে জাতীয় স্বার্থই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, ২০০১ সালের ক্ষমতা গ্রহণের পর নানা সংকট মোকাবিলা এবং পরবর্তী সময়ে বারবার কারাবরণ—সবক্ষেত্রেই তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, জনগণের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান রক্ষাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
তাঁকে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ বলা হয় এক বিশেষ কারণে। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১-এর সামরিক শাসনের চাপ, এমনকি শেখ হাসিনার দীর্ঘমেয়াদি দমননীতির মুখেও তিনি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। গৃহবন্দী জীবন, কারাবাস ও অসুস্থতাজনিত দুর্ভোগ সত্ত্বেও খালেদা জিয়া কখনো গণতন্ত্রের পথ থেকে সরে আসেননি। তাঁর নেতৃত্বেই বিএনপি বারবার জনগণকে সংগঠিত করেছে এবং গণতান্ত্রিক শক্তিকে একত্রিত রেখেছে।
বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সংসদীয় রাজনীতির শক্তিশালীকরণ এবং জনঅংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে তাঁর অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তাই একমত—দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাঁকে নিঃসন্দেহে “গণতন্ত্রের মা” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আজকের প্রজন্ম যখন বিভক্ত রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছে, তখন খালেদা জিয়ার উক্তি “দলের সাথে থেকে দেশের স্বার্থ বড়” আমাদের নতুন করে দিকনির্দেশনা দেয়। তাঁর এই দর্শন শুধু বিএনপির জন্য নয়, সমগ্র জাতির জন্য একটি শিক্ষা—দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে দেশের কল্যাণকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।