• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা কেশবপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ৬৮.৭৫ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ বেনাপোলে মাদক ও অপরাধ দমনে ওসি শহীদ তিতুমীরের কঠোর অবস্থান: যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে তৎপরতা, স্বস্তি ও আশার সঞ্চার সীমান্তবাসীর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘মনগড়া’ নিয়মে পাঠদান বন্ধের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্য: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

রক্তাক্ত পিলখানার সেই ফোনকল: শহীদ কর্নেল গুলজারের শেষ আর্তনাদ— “হ্যালো হেড কোয়ার্টার, দুইটা ফোর্স পাঠান…”

Reporter Name / ১৪৭ Time View
Update : শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

 

রক্তাক্ত পিলখানার সেই ফোনকল:
শহীদ কর্নেল গুলজারের শেষ আর্তনাদ— “হ্যালো হেড কোয়ার্টার, দুইটা ফোর্স পাঠান…”

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
“হ্যালো হেড কোয়ার্টার, আমি কর্নেল গুলজার বলছি… দুইটা ফোর্স পাঠান প্লিজ। ওরা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে…”
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়ের ভেতর থেকে ভেসে আসা এই কণ্ঠস্বর আজও কাঁপিয়ে তোলে বিবেক। ৪০ মিনিট পর একই কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল আরও করুণ আবেদন—
“অনেক অফিসারের লাশ মেঝেতে পড়ে আছে… আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?”
এই আর্তনাদ ছিল এক দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তার শেষ দায়িত্ববোধের প্রকাশ—যিনি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও সহযোদ্ধাদের জন্য সহায়তা চেয়েছিলেন।
জঙ্গিবাদ দমনে যিনি ছিলেন আতঙ্কের নাম
২০০৪-০৫ সালে যখন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) সারা দেশে সিরিজ বোমা হামলা ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছিল, তখন নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দক্ষ পরিকল্পনার নেতৃত্বে ছিলেন কর্নেল গুলজার।
তাঁর কৌশলী পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তৎপরতায় গ্রেফতার হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আব্দুর রহমান। সিলেটের ঐতিহাসিক সূর্যদীঘল বাড়ি থেকে তাঁকে বিনা রক্তপাতে আটক করা হয়—যেখানে কঠোর নির্দেশ ছিল পুরো এলাকা ধ্বংস করে অভিযান চালানোর।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম পর্যন্ত তাঁর জঙ্গিবিরোধী দক্ষতার প্রশংসা করেছিল। কঠোরতা ও মানবিকতার অনন্য সমন্বয় ছিল তাঁর অভিযানে।
“তোমার সাহস তো কম না…”
আরেক জঙ্গি নেতা বাংলা ভাই-কে ধরার অভিযানে যাওয়ার সময়, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ফোন করে ঝুঁকি না নিতে অনুরোধ করেছিলেন।
জবাবে তিনি বলেছিলেন—
“তোমার সাহস তো কম না! তুমি আমাকে নিষেধ করছ আমার দেশের মানুষকে বাঁচাতে?
তোমাদের জন্য আল্লাহ আছেন, আমার জন্যও আছেন। ভাগ্যে যা আছে তাই হবে। ফোন রাখো।”
এই সংলাপ আজও পরিবার ও সহকর্মীদের মুখে মুখে ঘোরে—একজন সৈনিকের অটল মানসিকতার প্রতীক হয়ে।
মাত্র ১০ দিন আগে যোগদান
তিনি মাত্র ১০ দিন আগে বাংলাদেশ রাইফেলস-এ (বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) যোগদান করেছিলেন।
সৈনিকদের সঙ্গে তাঁর কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন বা দ্বন্দ্ব ছিল না।
তবুও ইতিহাসের নির্মমতম সামরিক হত্যাযজ্ঞ—পিলখানা হত্যাকাণ্ড—এর ঘটনায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায় সবচেয়ে বিকৃত অবস্থায়। ১১ দিন পর শনাক্ত করা হয় তাঁর দেহ। তাঁর সন্তানই শেষ পর্যন্ত প্রিয় বাবাকে নিশ্চিত করেন—একটি জাতির জন্য যা ছিল হৃদয়বিদারক মুহূর্ত।
ইতিহাসের নির্মম প্রশ্ন
৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই ভূখণ্ডে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তা তৈরি হয়েছেন, হচ্ছেন, হবেন।
কিন্তু সহযোদ্ধাদের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যাওয়া, মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে দায়িত্ববোধের ডাক দেওয়া—এমন কর্নেল গুলজার কি আবার জন্মাবেন?
তাঁর জীবনের অধ্যায় আমাদের সামনে কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরে—
রাষ্ট্র কি তার বীর সন্তানদের যথাযথ নিরাপত্তা দিতে পেরেছিল?
সংকট মুহূর্তে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল কি?
ইতিহাস থেকে আমরা কী শিক্ষা নিয়েছি?
আত্মত্যাগের প্রতি জাতির শ্রদ্ধা
কর্নেল গুলজারের জীবন ছিল দায়িত্ব, বিশ্বাস ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
তিনি দেখিয়েছেন—একজন প্রকৃত সৈনিকের কাছে ব্যক্তিগত জীবন নয়, দেশের মানুষের নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে।
আজও তাঁর শেষ ফোনকল আমাদের কানে বাজে—
“আপনারা কি আসবেন না আমাদের বাঁচাতে?”
এই প্রশ্ন শুধু অতীতের নয়, ভবিষ্যতেরও।
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে এই দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে।
স্যালুট, কর্নেল গুলজার।
আপনার আত্মত্যাগ জাতি কখনও ভুলবে না।


More News Of This Category
bdit.com.bd