বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ :
রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ততম সূচির মধ্যেও সময়ানুবর্তিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসনে নতুন বার্তা দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। নিয়মিত কর্মদিবসে সকাল ৯টার আগেই তিনি কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দিনের কাজ শুরু করছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আগাম উপস্থিতি ও কর্মতৎপরতা সচিবালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয়ে সকালবেলার পরিবেশে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের আগেই দপ্তরে উপস্থিত হচ্ছেন। আগে যেখানে সকাল গড়িয়ে অফিসে উপস্থিত হওয়ার প্রবণতা ছিল, সেখানে এখন সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই অনেক দপ্তরে কাজের প্রস্তুতি সম্পন্ন হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়ে মৌখিক নির্দেশনা জোরদার করা হয়েছে। এতে ফাইল নিষ্পত্তি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে গতি এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ায় মাঠপর্যায়ের প্রশাসনও দ্রুত নির্দেশনা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব সময়মতো দপ্তরে উপস্থিত থাকলে তা প্রশাসনের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তৈরি করে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়বদ্ধতা বাড়ে এবং সেবা প্রদানে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি দপ্তরে বিলম্ব সংস্কৃতি নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় মেনে অফিসে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অযৌক্তিক বিলম্ব বা দায়িত্বে গাফিলতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত মনিটরিং এবং নেতৃত্বের ব্যক্তিগত উদাহরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে।
এদিকে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সকালবেলার প্রস্তুতিমূলক কাজ—যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নথি প্রস্তুতি ও সমন্বয় সভার আয়োজন—নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাইল চলাচল শুরু হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত হলে শুধু প্রশাসনিক দক্ষতাই বাড়ে না, বরং বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক বার্তা যায়। বিদেশি অংশীদার ও উন্নয়ন সহযোগীরাও প্রশাসনিক কার্যকারিতা বিবেচনায় রাখেন। তাই নেতৃত্বের সময়শৃঙ্খলা দেশের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলে।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রীর এই সময়নিষ্ঠ উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সরকারি দপ্তরে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও সেবার মান আরও উন্নত হবে। প্রশাসনে গতি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময়ানুবর্তিতাকে স্থায়ী সংস্কৃতিতে পরিণত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।