দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মোহাম্মদ ইসহাক সরকার বহিষ্কার
প্রাথমিক সদস্য পদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল পদ বাতিল
স্টাফ রিপোর্টার
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক সরকারকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি চর্চা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে চলার সুস্পষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বহিষ্কারের মাধ্যমে তার বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল ও এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, মোহাম্মদ ইসহাক সরকার দীর্ঘদিন ধরে দলের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত ও স্বার্থনির্ভর রাজনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সংগঠনের নীতি ও আদর্শের বাইরে গিয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য ও অবস্থান গ্রহণ করেন, যা দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
এছাড়া, দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি তিনি আগামীর রাষ্ট্রনায়ক, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্য ও পরোক্ষ অবস্থান গ্রহণ করেন বলে দল মনে করে। এসব কর্মকাণ্ডকে দল গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
বিএনপির দায়িত্বশীল এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“দল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ যদি ব্যক্তির রাজনীতি করেন এবং নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তাহলে সংগঠনের স্বার্থে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেই হয়।”
দলীয় সূত্র আরও জানায়, বিএনপির নীতি অনুযায়ী সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আদর্শিক অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অব্যাহত থাকবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, এই বহিষ্কার বার্তা স্পষ্ট—দলের ভেতরে থেকে দলবিরোধী রাজনীতি, সিদ্ধান্ত অমান্য এবং নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। সংগঠনকে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করতে চায়। সে লক্ষ্যেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও দেখা যেতে পারে।