ড্রাইভার চাই — কিন্তু রাজনীতির স্টিয়ারিং যিনি ঘোরান, তিনি কে?”
প্রকাশকাল: ১ আগস্ট ২০২৫
সংবাদদাতা: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
ঢাকা:
রাজনীতির রঙিন চালকের আসনে বসে যিনি কখনও প্রাডো চালান, কখনও মার্সিডিস — আর পেছনের সিটে বসেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জামায়াত — এমন এক বহুরূপী চরিত্রের নাম গোলাম মাওলা রনি। এখন তিনি আবার খুঁজছেন একজন প্রকৃত “ড্রাইভার” — বয়সে বয়স্ক, অভিজ্ঞ এবং বিলাসবহুল গাড়ি চালনায় দক্ষ।
সম্প্রতি ঢাকার তোপখানা রোডের সেবোল্ট গ্রুপ থেকে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে খোলাখুলি বলা হয়েছে:
> “জরুরি ভিত্তিতে একজন বয়স্ক এবং অভিজ্ঞ ড্রাইভার আবশ্যক! প্রাডো/পাজেরো জীপ এবং অডি/মার্সিডিস গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা আবশ্যক!”
নাম দিয়ে ঠিকানা পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে:
জনাব খাইরুল বাসার, সেবোল্ট গ্রুপ, মেহেরবা প্লাজা, ১০ম তলা, তোপখানা রোড।
তবে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির সবচেয়ে মজার দিকটি হচ্ছে যিনি পেছনের আসনে বসে রাজনীতির গতি নির্ধারণ করেন — তিনি নিজেই জাতীয় রাজনীতির একজন ‘রাজনৈতিক চালক’, যিনি জীবনে কখনো আওয়ামী লীগের হয়ে লড়েছেন, কখনো বিএনপির হয়ে গণমাধ্যমে জ্বালাময়ী বক্তৃতা দিয়েছেন, আবার জামায়াতের সঙ্গেও সখ্যতার গুঞ্জন উঠেছে।
বহুরূপী চরিত্রের সংক্ষিপ্ত টাইমলাইন:
২০০৮: আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে সংসদে প্রবেশ।
২০১৪: দলের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে জোরালো সমালোচনা।
২০১৫–২০১৭: মিডিয়ায় ‘স্বাধীন’ কণ্ঠস্বরের চর্চা।
২০১৮: বিএনপির হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ — অনেকেই বলেন, তখন ‘গাড়ির গিয়ার বদলেছিল’।
পরবর্তী বছরগুলো: আবার নানা রং বদল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাম মাওলা রনির মতো রাজনৈতিক চরিত্ররা “ডাবল ইঞ্জিন” বা কখনো “রং বদলানো গিরগিটি” রূপে পরিচিত।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন মন্তব্য করেছেন,
> “আপনি শুধু ড্রাইভারই খুঁজছেন কেন, একটা নতুন GPS-ও লাগবে যেটা ঠিক করে বলে দেবে আপনি এখন কোন দলের দিকে যাচ্ছেন!”
আরেকজন যোগ করেন,
> “যে লোক এতবার দল বদলায়, তার গাড়ির স্টিয়ারিং তো বোধহয় নিজেই নিয়ন্ত্রণে রাখে না— তাই এখন একজন অভিজ্ঞ ড্রাইভার দরকার।”
শেষ কথা:
এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আপাতদৃষ্টিতে গাড়ির ড্রাইভারের হলেও, গভীরভাবে দেখলে এটি যেন রনির নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রতিফলন— যেখানে প্রতিটি মোড়েই নতুন গতি, নতুন রাস্তা, আর কখনো পেছনের আসন থেকেও নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা।
তবে এবার তিনি কার স্টিয়ারিং ধরতে যাচ্ছেন — সেটা সময়ই বলবে।