তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশনায়: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
জুলাই সনদে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহউদ্দিন আহমদের স্পষ্ট ঘোষণা
ঢাকা প্রতিনিধি:
বিএনপি যে কোনও সময় ‘জুলাই সনদ’-এ স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিএনপি শুধু সনদের কাগজে সই নয়—তার বাস্তবায়নের দিকেই মূলত গুরুত্ব দিচ্ছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট: সংশোধন ও জবাব ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে
সালাহউদ্দিন জানান, জুলাই সনদ হাতে পাওয়ার পরপরই ৩০ জুলাই বিএনপি লিখিতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনসহ নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
> “বিএনপি প্রথম থেকেই সহযোগিতা করে এসেছে। এখনো করে যাচ্ছে। বাস্তবায়নে আন্তরিকতাই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতেই ঘোষণাপত্রের প্রাথমিক প্রস্তাব পায় বিএনপি, এবং তখনই তাদের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। দলটি ২৬ মার্চকে কেন্দ্র করে যে সাংবিধানিক উপস্থাপনা ছিল, তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। তাছাড়া, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্নে ‘চতুর্থ তপশিলের’ মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনকে সমর্থন জানিয়েছে বিএনপি।
দাওয়াত না পাওয়ার ক্ষোভ, রাজনৈতিক সৌজন্যের প্রশ্ন
তিনি জানান, ৪ আগস্ট পর্যন্ত ‘মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠের অনুষ্ঠান’-এর জন্য বিএনপিকে কোনো আনুষ্ঠানিক দাওয়াত দেওয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,
> “জাতীয় সংলাপ বা ঐকমত্যের ভিত্তি যদি বাস্তব হয়, তবে দাওয়াত-সংবর্ধনার এড়িয়ে যাওয়া রাজনৈতিক অশালীনতা। এটা ইতিহাসের দায়ও হয়ে থাকবে।”
রাষ্ট্র সংস্কার কমিশন নিয়ে বিএনপির ভিন্নমত
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীন যে ‘রাষ্ট্র সংস্কার কমিশন’ গঠিত হয়েছে, সে প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন,
> “১৯টি মৌলিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি প্রস্তাবে আমরা দ্বিমত জানিয়েছি। বাকিগুলোতে আমরা একমত।”
তিনি পরিষ্কার করেন, ভিন্নমতের জায়গাগুলো ভবিষ্যৎ আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান
সালাহউদ্দিন আহমদ এই মুহূর্তে ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ধরে রাখাকে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
> “মৌলিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্য ভেঙে গেলে তা জাতীয় আত্মঘাতকতা হবে।”
বিশ্লেষণ: বিএনপির অবস্থান ইতিবাচক, কিন্তু সরকারী আন্তরিকতার ঘাটতি স্পষ্ট
এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিএনপি কোনো গোপন চুক্তিতে নয়, বরং গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী একপ্রকার ‘সন্ধির নৈতিক ভিত্তি’ নির্মাণে সচেষ্ট। তবে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়া, সংশোধনীর স্বীকৃতি না দেওয়া—এসব ইঙ্গিত দেয়, ক্ষমতাসীন মহলে এখনও ঐক্যমতের ধারণা ‘শো-পিস পর্যায়ে’ আছে।
জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ, এখন মূলত নির্ভর করছে সরকারের দায়িত্বশীলতা এবং ঐক্যবদ্ধ বিরোধীপক্ষের কৌশলী দৃঢ়তার ওপর।
—
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
তথ্যসূত্র: গুলশান প্রেস ব্রিফিং, বিএনপি নেতৃবৃন্দ, ঘোষণাপত্র সংশ্লিষ্ট নথি