জুলকারনাইন সাইরের ফেসবুক পোস্টে ৫জি প্রকল্পের অনিয়মের খণ্ডচিত্র, জিয়া হাসানের বিভ্রান্তি উন্মোচিত
ঢাকা | ২৭ জুলাই ২০২৫ | ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
সরকারি টেলিকম প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়ম, স্বার্থের সংঘাত, এবং নির্বাহী হস্তক্ষেপ নিয়ে যেখানে একাধিক নিরপেক্ষ সংবাদমাধ্যম ধারাবাহিক অনুসন্ধান করেছে, সেখানেই তথাকথিত ‘ফ্যাক্টচেকার’ জিয়া হাসান নিজের ‘ভিত্তিহীন গল্প’ সাজিয়ে আবারও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
তবে এবার এই বিভ্রান্তির জবাব এসেছে একজন প্রযুক্তি বিশ্লেষক ও পরিপূর্ণ নথিপত্র-ভিত্তিক পর্যবেক্ষক জুলকারনাইন সাইর–এর কাছ থেকে। নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দ্য ডেইলি স্টার, টিআইবি, আবু সাঈদ খান, এবং সরকারি তদন্তের রেফারেন্স দিয়ে তুলে ধরেছেন প্রকল্পে কীভাবে একের পর এক অনিয়ম ঘটেছে।
🔎 জুলকারনাইন সাইরের পোস্টের মূল পয়েন্টগুলো:
১. টেন্ডার মূল্যায়নে জালিয়াতি:
Huawei, ZTE ও Nokia—তিনটিই পূর্ণ প্রযুক্তিগত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হলেও টেকনিক্যাল ইভালুয়েশন কমিটি (TEC) সবাইকে যোগ্য ঘোষণা করে।
পিপিআর ২০০৮ অনুযায়ী, এ ধরনের মানহীন প্রস্তাবের আর্থিক দর খোলা বেআইনি।
২. নিয়ম বহির্ভূতভাবে আর্থিক দর খোলা:
মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কম নোটিশে দর খোলা হয়, যেখানে ৭ দিন সময় দেওয়ার নিয়ম। ZTE প্রতিনিধি উপস্থিতই হতে পারেনি।
দুদিনেই প্রকল্প অনুমোদন ও কাজের আদেশ—যা পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
৩. দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরখাস্ত:
বিটিসিএল-এর HOPE কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চৌধুরী নিয়ম মেনে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামানের বেআইনি হস্তক্ষেপে তাঁকে শোকজ ও বরখাস্ত করা হয়।
৪. ACC তদন্তের মধ্যেই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ:
প্রধান উপদেষ্টার সহকারী ফাইজ আহমাদ তাইয়েব চীনের যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য চাপ দেন, যা কার্যত তদন্তকে ভন্ডুল করে দেয়।
বিশেষজ্ঞ মত:
আবু সাঈদ খান (LIRNEasia): “প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম স্পষ্ট, পুনরায় দরপত্র আহ্বান ছিল বাধ্যতামূলক। ACC এখনও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি—এটা বিস্ময়কর।”
ড. ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি): “তদন্ত চলাকালীন সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ বেআইনি ও স্বার্থের সংঘাতের উদাহরণ।”
ডকুমেন্টেড সোর্স (জুলকারনাইন সাইরের পোস্টে উল্লেখিত):
ডেইলি স্টার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৩ – প্রকল্পে অনিয়মের চিত্র
ডেইলি স্টার, ২৭ জুলাই ২০২৫ – তদন্ত চলাকালীন সরকারি হস্তক্ষেপ
দণ্ডিত হওয়ার ঘটনা – নিয়ম মেনে কাজ করায়
🧾 জুলকারনাইন সাইরের বক্তব্যে মূল বার্তা ছিল স্পষ্ট:
“প্রতিবেদনে কী ভুল আছে, তা ব্যাখ্যা না করে জিয়া হাসান কেবল সাংবাদিকদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। এটা শুধু সাংবাদিকতার স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসিকতাকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত করছে।”
জুলকারনাইন সাইরের তথ্যনির্ভর পোস্ট শুধুমাত্র একটি ‘মতামত’ নয়, বরং এটি একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক জবাবদিহির অভাব নিয়ে গণমাধ্যমে চলমান প্রচেষ্টার প্রমাণপত্র। জিয়া হাসানের মতো চরিত্ররা যখন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার বদলে ‘নির্বাচিত নিরবতা’ কিংবা বিভ্রান্তির আশ্রয় নেয়, তখন এই ধরনের বিশ্লেষণই ভবিষ্যতের গণতন্ত্র রক্ষার অন্তরালে সত্যের মুখপাত্র হয়ে দাঁড়ায়।