জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নির্বাহী ক্ষমতা রহিতের দাবি
প্রভাবশালী ‘অফিশিয়াল নন’ ব্যক্তিদের সরকারি দপ্তরে প্রবেশ সীমিত করার আহ্বান
ডেটলাইন: ঢাকা | বিশেষ প্রতিনিধি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একাধিক ব্যক্তি ও মহলের নির্বাহী ক্ষমতা এবং পদ ব্যবহার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে ভোটের অন্তত ৯৬ ঘণ্টা আগে এসব ব্যক্তির নির্বাহী ক্ষমতা ও সরকারি পদ ব্যবহারের সুযোগ রহিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, সর্বোত্তম ব্যবস্থা হবে—প্রধান উপদেষ্টা ব্যতীত অন্তর্বর্তী সরকারের সকল উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নির্বাহী ক্ষমতা এবং পদের ব্যবহার একইভাবে স্থগিত করা। এতে করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় প্রভাব, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
অফিশিয়াল পদ না থাকলেও প্রভাবশালী—দু’জনকে ঘিরে উদ্বেগ
এদিকে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অফিশিয়াল ক্যাপাসিটিতে যুক্ত না থেকেও অন্তত দু’জন ব্যক্তি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারে সক্ষম বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রমতে, এই দুই ব্যক্তি সরকারের অন্দরমহল, সংরক্ষিত এলাকা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ে অবাধ যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও প্রভাবকে নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি কার্যালয়ে প্রবেশ সীমিত করার দাবি
নির্বাচনের আগে এসব প্রভাবশালী কিন্তু অফিশিয়াল নন ব্যক্তিদের—
সরকারের অন্দরমহল
সংরক্ষিত এলাকা
সচিবালয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে
প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করা প্রয়োজন বলে দাবি উঠেছে। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এটি একটি অপরিহার্য পদক্ষেপ বলে মত দিচ্ছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।
নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সরকারি ক্ষমতা, প্রভাব কিংবা রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়, তাহলে সেটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ, তাদের সিদ্ধান্ত ও তৎপরতা সরাসরি মাঠ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে তথ্য নিশ্চিতের দাবি
জুলকারনাইন সাইর নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশিত পোস্টে উপরোক্ত বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গেছে। ওই পোস্টে নির্বাচন-পূর্ব সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
দৃষ্টি আকর্ষণ ও আহ্বান
নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সকল পক্ষ—
নির্বাচন কমিশন,
প্রশাসন,
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের
এই বিষয়ে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহলের মতে, এখনই প্রয়োজন স্পষ্ট নির্দেশনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং ক্ষমতার নিরপেক্ষ ব্যবস্থাপনা। অন্যথায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনমনে অনাস্থা ও বিতর্ক আরও গভীর হতে পারে।