জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে সরে দাঁড়ালেন নীলা ইস্রাফিল: নারীর কণ্ঠ উপেক্ষিত, অভিযোগ প্রকাশ্যে
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেন নীলা ইস্রাফিল। সোমবার (২৮ জুলাই) তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক স্টেটমেন্টে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পরপরই দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন গণমাধ্যমে মন্তব্য করেন, “নীলা ইস্রাফিল এখন আর এনসিপির কেউ নন, তিনি আগে নাগরিক কমিটিতে ছিলেন।”
তবে বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। দলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্যের জবাবে নীলা ইস্রাফিল নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একাধিক প্রশ্ন তুলে দেন এবং অভিযোগ করেন যে, তাকে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, অথচ এখন সত্য বলায় তাকে অস্বীকার করা হচ্ছে।
নারীর কণ্ঠ কি শুধু সুবিধামতো ব্যবহারযোগ্য?
নীলা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “যখন আমি দলের অপরাধ, অনাচার ও লিপ্সার বিরুদ্ধে মুখ খুললাম, তখন আমি তাদের কেউ না? এত দিন আমার কণ্ঠ, পরিচয় ও ত্যাগ দলের পক্ষে ছিল, তখন কোনো সমস্যা ছিল না। এখন নারীর কণ্ঠ অবজ্ঞা করা হচ্ছে।”
তিনি আরও লেখেন, “আপনারা কি দল চালান, নাকি ক্ষমতা ও নারীকে ব্যবহার করে ছুঁড়ে ফেলার কারখানা?”
‘আমাদের নেত্রী’ থেকে ‘দলের কেউ না’: এক বিপরীত যাত্রা
নীলার মতে, তিনি যখন দলের পক্ষে কথা বলতেন, তখন তাকে দলের শক্তি ও নেত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হতো। কিন্তু তিনি অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই ‘দলের কেউ নন’ — এই তকমা দেওয়া হলো।
তিনি লেখেন, “আমি অবাক নই যে দল আমাকে অস্বীকার করছে, কারণ সত্য বললে অনেক সময় আপনজনই মুখ ফিরিয়ে নেয়।”
‘আমি কারো পরিচয়ে নই, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো একজন মানুষ’
নিজ অবস্থান পরিষ্কার করে নীলা বলেন, “আমি কারো পরিচয়ে নই, আমি ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ। আমাকে অস্বীকার করলেও সত্য অস্বীকার করা যাবে না।”
দলীয় নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন
নীলার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে একটি গভীর রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট। নারীদের রাজনৈতিক অঙ্গনে কীভাবে ক্ষমতার ‘টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, এবং সত্য বললেই তাদের কীভাবে ছেঁটে ফেলা হয়—এই চিত্র যেন তিনি নগ্নভাবে উন্মোচন করেছেন।
এই ঘটনার পর এনসিপির অবস্থান এবং নেতৃত্বের চরিত্র নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দলের অভ্যন্তরীণ অসঙ্গতি ও নারী নেতৃত্বকে নিয়ে দলটির দৃষ্টিভঙ্গি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
এই প্রতিবেদন লিখে শেষ করা যায় নীলা ইস্রাফিলের এক প্রতীকী উচ্চারণ দিয়ে—
“আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করা গেলেও, সত্যের কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না।”
— দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর