কেশবপুরে তিন নদীর খননকাজ পরিদর্শনে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন আজাদ: “জনগণের ভালোবাসাই আমার মূল অর্জন”
হাফিজুর রহমান, যশোর প্রতিনিধি
তারিখ: ১৭ জুলাই ২০২৫
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের বিএনপির সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে যান কেশবপুরের হরিহর, অপার ভদ্রা ও বুড়ি ভদ্রা নদীর খননকাজে।

তিন নদীর সংযোগস্থলে পৌঁছে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে খনন কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সুমন সিকদার।
তিনি বলেন,
> “পানি উন্নয়ন বোর্ডের খনন কার্যক্রম যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগোয়, সেজন্য আমরা রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে যাবো। কেশবপুরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পিত নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের বিকল্প নেই।”
আজাদ আরও বলেন,
> “আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। জনগণের ভালোবাসা পাওয়াটাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। কেশবপুরের প্রতিটি মানুষের দুঃখ-কষ্টে আমি পাশে থাকতে চাই, এটিই আমার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি।”
পরিদর্শনে অংশগ্রহণ
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির বিশ্বাস, হুমায়ূন কবির সুমন, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিক, দপ্তর সম্পাদক ফারুক খান এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান হিমেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
নদী খননের বাস্তবতা
বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হরিহর, অপার ভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদীর নাব্যতা সংকট এবং অপরিকল্পিত মাছের ঘেরের কারণে কেশবপুরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নদী ও খালগুলো কচুরিপানায় বন্ধ হয়ে পড়ায় পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের বহু এলাকা প্লাবিত। হাজারো পরিবার আশ্রয় নিয়েছে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে।
কেশবপুর পাইকারি কাঁচা বাজার, ধান হাট, হলুদ হাটসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো তলিয়ে গেছে। কৃষকের ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে।
আগের সরকারের দায় এড়িয়ে যাওয়া
সাংবাদিকদের প্রশ্নে আবুল হোসেন আজাদ বলেন,
> “বিগত সরকার নদী খননের নামে নাটক করেছে। প্রকৃত কাজের চেয়ে বাজেট লুটপাটেই তাদের আগ্রহ ছিল বেশি। হরিহর, মনিরামপুর, অভয়নগরের নদীগুলো অবহেলিত ছিল। তারই ফলশ্রুতিতে আজ এই দুর্দশা।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
> “যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তাহলে কেশবপুরকে জলাবদ্ধতামুক্ত, টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার মডেল হিসেবে গড়ে তোলা হবে। উন্নয়নের নামে ফাঁকা বুলি নয়, আমি কাজ করে কেশবপুরবাসীর আস্থা অর্জন করতে চাই। কারণ আমি কেশবপুরের কারিগর, কেশবপুর আমার ঘর।”