• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত?

কুমিল্লা সীমান্তে ভয়াবহ মাদক আগ্রাসন: মহানগরে গড়ে উঠেছে শত শত মাদক স্পট

Reporter Name / ৩১৬ Time View
Update : শনিবার, ২ আগস্ট, ২০২৫

 

তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশক: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর


কুমিল্লা সীমান্তে ভয়াবহ মাদক আগ্রাসন: মহানগরে গড়ে উঠেছে শত শত মাদক স্পট

স্টাফ রিপোর্ট: মো. শাহজাহান বাশার

কুমিল্লা, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা—যেখানে গোমতির শান্ত স্রোতের নিচে আজ বইছে মাদকের বিষাক্ত ধারা। সীমান্তের ১০৩ কিলোমিটার জুড়ে প্রতিদিন ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিল ও ভারতীয় মদ প্রবেশ করছে, আর মহানগরীর অলিতে-গলিতে গড়ে উঠেছে শত শত মাদক স্পট।

ব্রাহ্মণপাড়া, চৌদ্দগ্রাম, মনোহরগঞ্জ, মুরাদনগর ও আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় একাধিক চোরাকারবারি সিন্ডিকেট। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলগুলোর সঙ্গে গোপন চুক্তির ছলে মাদক আসছে কুমিল্লায়। এসব চক্রের পেছনে রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মদদ, যা পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মহানগরের গোমতির দুই পাড় এখন মাদককারবারিদের নিরাপদ ঘাঁটি। গোমতী ব্রিজের নিচে, মাছবাজার লাগোয়া এলাকা, দেবিদ্বার থেকে সদর দক্ষিণ সংযোগস্থল—সবখানেই সন্ধ্যার পরেই শুরু হয় প্রকাশ্য বেচাকেনা। স্থানীয়রা জানান, “মুখ খুললেই হুমকি আসে। আমরা আতঙ্কে চুপ করে থাকি।”

এমনকি শহরের কেন্দ্রস্থল কান্দিরপাড়, ঠাকুরপাড়া, চকবাজার, রাজগঞ্জ, আলেখারচর, কোটবাড়ি, চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড, ময়নামতি—প্রতিটি এলাকাতেই গড়ে উঠেছে একাধিক মাদক স্পট। মাদক এখন শুধু গলিতে নয়, ঢুকে পড়েছে স্কুল-কলেজের মাঠে, তরুণদের রক্তে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ জন তরুণকে চিহ্নিত করা যাচ্ছে, যারা মাদকাসক্ত। এদের বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। ইয়াবা ও গাঁজা—এই দুই নেশাদ্রব্যের দাপটে তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এসব কারবার দিনের পর দিন কীভাবে চলে? স্থানীয়দের অভিযোগ, “মাদক ব্যবসা চলছে পুলিশের একাংশের প্রত্যক্ষ মদদে। না হলে বছরের পর বছর কেউ এক জায়গায় মাদক বেচতে পারে না।”

পুলিশের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হলেও তা কার্যত লোকদেখানো বলেই দাবি করছেন সুশীল সমাজ। জেলা প্রশাসন প্রতিশ্রুতি দিলেও নেই কোনো সুসংগঠিত টাস্কফোর্স বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

একজন জেলা প্রশাসক কর্মকর্তা জানান, “বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। স্থানীয় রাজনীতি, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ এবং প্রশাসনিক জড়তা একে নিয়ন্ত্রণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল হাকিম বলেন, “মাদক সমস্যা আইনশৃঙ্খলা দিয়ে একা সমাধান সম্ভব নয়। এখানে দরকার সামাজিক জাগরণ, শিক্ষার প্রসার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রশাসনের কঠোর আন্তরিকতা।”

এই অবস্থা চলতে থাকলে কুমিল্লা পরিণত হবে এক ভয়ংকর মাদকনির্ভর অঞ্চলে, যেখানে নৈতিকতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য—সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।

এখনই সময়—জাগো কুমিল্লা, রুখে দাঁড়াও মাদকের বিরুদ্ধে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd