ঐকমত্য কমিশনের ৮২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে অধিকাংশই গৃহীত, ৫১টিতে দ্বিমত: সালাহউদ্দিন আহমেদ
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক রিপোর্ট
ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৫:
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দ্বিতীয় দফার ২২তম বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের মোট ৮২৬টি প্রস্তাবের মধ্যে বেশির ভাগই তারা মেনে নিয়েছেন। মাত্র ৫১টি প্রস্তাবে ভিন্নমত জানানো হয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে এসব বিষয়েরও গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি—এই কমিশনের কাজ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, নির্বাচনী কাঠামো, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যপরিধি, এবং সর্বোপরি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা। সেই প্রেক্ষিতে আমরা আন্তরিকভাবেই কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রস্তাবে আমরা দ্বিমত জানিয়েছি, সেগুলো নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এগুলোর মধ্যে কিছু রয়েছে প্রযুক্তিগত, কিছু রয়েছে নীতিগত—যা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে না, বরং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছানোর পথ উন্মুক্ত থাকবে।”
কমিশনের বৈঠকে বিচারপতি (অব.) একেএম শামসুল হুদা সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের প্রতিনিধিরা।
বিশেষভাবে নজরে এসেছে কয়েকটি স্পর্শকাতর প্রস্তাব, যেমন: সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে সংসদীয় নজরদারি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের সময়কাল, বিচার বিভাগীয় কমিশনের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, এবং নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা বলয়ের গঠন। এসব প্রস্তাব নিয়েই সবচেয়ে বেশি মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরের মতো এবারও একটাই বার্তা—জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি কোনো আপসের জায়গা নয়, তবে আলাপ-আলোচনার পথ সবসময় খোলা থাকবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজ এখন শেষপর্যায়ে। আশা করা হচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি চূড়ান্ত প্রস্তাবনাসমূহ সকল অংশীদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে এবং সেপ্টেম্বরের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।
বস্তুত, ৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পালাবদলের এক বছর পূর্তির মুহূর্তে এই কমিশনের সুপারিশমালা দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।