ডা. জোবাইদা রহমানের স্ট্যাটাসে উঠে এলো বিএনপির নিঃসঙ্গ বীরত্বের ইতিহাস
২১ জুলাই ২০২৫, সোমবার
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট
একটা রাজনৈতিক দল ১৬ বছর ধরে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শুধু রাজপথে নয়, রাষ্ট্রযন্ত্র, আদালত, গোয়েন্দা সংস্থা, মিডিয়া, আর বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যদি সাময়িকভাবে ব্যর্থ হয়—তবে সেই ব্যর্থতা ইতিহাস নয়, তা এক সংগ্রামী অধ্যায়। ঠিক এই কথা যেন স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন বিএনপির সিনিয়র নেত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিস্ফোরক স্ট্যাটাসে।

ডা. জোবাইদা রহমান লিখেছেন—
“হাসিনার পতনে প্রাণ দিয়েছেন প্রায় ১৫০০ জন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার। কিন্তু গত ১৬ বছরে বিএনপির প্রাণ হারানো নেতাকর্মীর সংখ্যা ৪,৭৭১ জন। গুম হয়েছেন ১,২০৪ জন। দায়ের করা হয়েছে প্রায় ১,৪৩,০০০টি মামলা, যার আসামী ৬০ লক্ষ বিএনপি কর্মী। আর আহতদের সংখ্যা?— অগুনতি।”
এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়—এই সংখ্যা জুড়ে আছে মা-বাবার কান্না, স্ত্রীর নিঃশ্বাস, সন্তানের অনাথ হওয়া, আর হাজারো পরিবারের জীবন বিপর্যয়ের গল্প।
ডা. জোবাইদার বিশ্লেষণ স্পষ্ট:
“বিএনপি শুধু হাসিনা বা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি। বিএনপি লড়েছে আদালত, পুলিশ-র্যাব, গোয়েন্দা সংস্থা, বিকৃত মিডিয়া এবং সবচেয়ে বড় এনিমি ভারতের আগ্রাসী হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। এই লড়াইটা বিএনপি একাই লড়েছে।”
তিনি আরও লিখেছেন—
“এই দেশের অনেকেই বিএনপিকে মৌন সমর্থন দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু রাজপথে নামেননি। কেউ কেউ তো সরাসরি শেখ হাসিনার পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই বিএনপির রক্ত, শ্রম ও ত্যাগের পরও সে সময় সফলতা আসেনি।”
ডা. জোবাইদা এও বলেন:
“শেখ হাসিনার পতন ঘটেছে তখনই, যখন বিএনপি, ছাত্র-জনতা, জনগণ, সবাই একযোগে মাঠে নেমেছে। তাই যারা আজ ব্যঙ্গ করে বলেন—বিএনপি পারেনি, তারা এই ‘একাকীত্ব’ বুঝতে চান না।”
এই কথাগুলো আজ একটি ঐতিহাসিক স্বীকারোক্তির মতো শোনায়।
“বিএনপি পারেনি কারণ বিএনপির পাশে কেউ ছিল না। কিন্তু ছাত্র-জনতা পেরেছে কারণ ছাত্র-জনতার পাশে বিএনপিসহ সকল শক্তিই ছিল।”
এটা শুধুই রাজনৈতিক ভাষণ নয়—এটা সেই ত্যাগের ইতিহাস যা কোনো ক্যামেরা ধারণ করেনি, কোনো হেডলাইন ছাপেনি, কিন্তু হাজারো পরিবার বুকে বয়ে বেড়াচ্ছে।
ইতিহাস ব্যর্থতাকে হাস্যরস করে না, ইতিহাস সেটাকে স্যালুট করে
আজ যারা “বিএনপি পারেনি” বলে কৌতুক করে, তারা একবারও ভাবেন না—এই “না পারার” পেছনে কত রক্ত, কত চোখের জল, কত পরাজিত স্বপ্ন গাঁথা আছে। ডা. জোবাইদা রহমান সেইসব নীরব যোদ্ধার পক্ষেই মুখ খুলেছেন। তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন—তিনি বিএনপির সংগ্রামের নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যদাতা।