তারিখ: ৪ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশনায়: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর
আমার না বলা কথা: এক বছরের গণঅভ্যুত্থান পর্বে তারেক রহমানের আত্মবিশ্বাসী প্রত্যয়— “জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি হবে বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতি”
ঢাকা, আইইবি প্রাঙ্গণ (রমনা) —
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত “ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা” শীর্ষক আলোচনা সভা আজ ঢাকার রমনায় ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভিডিও বার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক সংবেদনশীল, ভাবগম্ভীর ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন—
“বিএনপি’র আগামী দিনের নীতি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি। দেশে-বিদেশে ব্যাপকহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার রাজনীতি।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল আত্মা তুলে ধরেন এবং বলেন,
“এই একবছরের অভ্যুত্থান ছিল শুধুই রাজনৈতিক ক্ষমতার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের সম্মান, ভোটাধিকার এবং নাগরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের লড়াই। যারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা প্রাণ দিয়েছে, তারা চিরস্মরণীয়। আমরা তাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।”
শহীদ পরিবারকে সম্মাননা প্রদান: চোখে জল, হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা
আলোচনা সভার আবেগঘন মুহূর্ত ছিল অভ্যুত্থানকালীন শহীদ যুবদল ও ছাত্রদলের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা প্রদান পর্ব। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা শহীদ পরিবারের হাতে স্মারক তুলে দেন।
একজন শহীদ পিতার কান্নাজড়িত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়,
“আমার ছেলে কোনো দলে যোগ দিয়ে নয়, জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য জীবন দিয়েছে। আজ তারেক রহমান তার ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা কৃতজ্ঞ।”
তরুণদের উদ্দীপনা: ভবিষ্যতের নেতৃত্বে নতুন স্বপ্ন
যুবদলের সভাপতি বলেন—
“এই আলোচনা সভা একতরফা রাজনীতির অবসানের এবং গণতান্ত্রিক বিকল্প শক্তির ঘোড়ার লাগাম হাতে নেওয়ার ঘোষণা। বাংলাদেশের তরুণরা যদি এখন না জাগে, তাহলে এই দেশ আবার দখল হয়ে যাবে দুর্নীতিবাজ ও দেশবিরোধীদের হাতে।”
তিনি তরুণদের সামনে একটি স্পষ্ট বার্তা দেন— এখন সময় শুধু প্রতিক্রিয়া দেখানোর নয়, বরং নেতৃত্ব নেওয়ার।
সাম্প্রতিক বাস্তবতায় বিএনপি’র অবস্থান
তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, বিএনপি আজ আর শুধুমাত্র আন্দোলননির্ভর দল নয়। তারা নিজেদের পুনর্গঠন করছে উন্নয়নবাদী, কর্মসংস্থানমুখী, স্বচ্ছ প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিসম্পন্ন একটি বিকল্প সরকারব্যবস্থা উপস্থাপন করতে।
তিনি বলেন—
“ভবিষ্যতের বাংলাদেশে আমরা চাই, একজন সাধারণ মানুষ যেন শুধু ভোট দিতে না পারে, বরং ভোটের মাধ্যমে তাঁর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।”
রাজনীতির মোড় ঘোরানো বার্তা: ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সন্ধিক্ষণে
এই আলোচনা সভা ছিল শুধু শহীদদের স্মরণ নয়, বরং আন্দোলনের মূল্যায়ন, আগামী দিনের রণকৌশল নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক চেতনার পুনরুজ্জীবনের একটি কেন্দ্রবিন্দু।
তারেক রহমানের “আমার না বলা কথা” আজ জনতার কথায় রূপ নিয়েছে। তা ছিল আত্মবিশ্লেষণের আহ্বান, তা ছিল নেতৃত্বের দায় স্বীকার, আর তা ছিল একটি নতুন দিগন্তের সূচনা।
“আমার না বলা কথা”—শুধু একটি শিরোনাম নয়, এটি ছিল এক বছরের অস্থির রাজনৈতিক সংগ্রামের নেপথ্য কণ্ঠস্বর। তারেক রহমান আজ সেই না বলা কথাগুলোকে উচ্চারণ করলেন শহীদদের সামনে, জনতার হৃদয়ে, এবং ইতিহাসের পাতায়।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে অতীতের ভুল শুধরে ভবিষ্যতের সেতু গড়া সময় এসেছে। তরুণদের মধ্যে আগুন জ্বলছে, শহীদদের আত্মত্যাগ আজও তাজা, এবং তারেক রহমান যেন বলছেন— “এটাই সময়। আমরা থামব না।”
প্রতিবেদন: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
স্থান: ঢাকা, রমনা, আইইবি প্রাঙ্গণ
সময়: সন্ধ্যা ৭:০০, ৪ আগস্ট ২০২৫
প্রকাশনা: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
স্লোগান: জনতার কণ্ঠস্বর