আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ডানা মেলেই ঝরে গেল দু’টি নক্ষত্র: ফারিয়া লারা ও তৌকির
ডেইলি প্রথম বাংলাদেশ | ২৪ জুলাই ২০২৫ | ঢাকা
তারা দুজন—ফারিয়া লারা হোসেন ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির আহমেদ। দুটি তরুণ প্রাণ, দুটি স্বপ্ন, একটি অভিন্ন গন্তব্য—বাংলাদেশের আকাশ। কিন্তু সেই নীল আকাশেই থেমে গেল তাঁদের জীবনের গতি। যেখানে তাঁরা সবচেয়ে বেশি জীবন্ত ছিলেন, সেখানেই তাঁদের চিরবিদায়।
ফারিয়া লারা হোসেন, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের কন্যা। ছিলেন এক প্রতিশ্রুতিশীল পাইলট, যিনি মাত্র তিন মিনিটের অপেক্ষায় ছিলেন দেশের প্রথম নারী “ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর” ঘোষিত হওয়ার। সেই মুহূর্ত আসার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফারিয়া পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন—এক অপূরণীয় ক্ষতির ভার দিয়ে।
অপরজন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির আহমেদ—বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এক সাহসী সেনা। প্রশিক্ষণকালে বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তিনি তা জনবহুল এলাকা এড়িয়ে নিতে সক্ষম হন, রক্ষা করেন বহু শিশু ও সাধারণ মানুষের জীবন। কিন্তু এই নায়কের নিজের প্রাণ রক্ষা হয়নি। তাঁর আত্মত্যাগ আজ গর্বের সঙ্গে স্মরণ করছে পুরো জাতি।
এই দুই মৃত্যুই একে অপর থেকে আলাদা, আবার একইসঙ্গে বয়ে আনে জাতীয় বেদনার এক অবিচ্ছিন্ন স্রোত। তারা দুজনই ছিলেন আমাদের সম্ভাবনার প্রতীক। তাঁদের চলে যাওয়া যেন এক ঝলকে নিভে যাওয়া উজ্জ্বল তারা, যাদের আলো এখনও ছড়িয়ে পড়ে আমাদের স্মৃতির গহীনে।
তাঁরা হয়তো এখন অন্য এক আকাশে, যেখানে নেই ঝড়, নেই দুর্ঘটনার আশঙ্কা। যেখানে আছে কেবল মুক্ত ডানায় উড়বার এক অনন্ত স্বাধীনতা।
এখানে, বাংলাদেশে, তাঁদের নাম থাকবে চিরস্মরণীয়—আকাশের সন্তান হিসেবে।
—
“আকাশে হারিয়ে যাওয়া তারা কখনো নিভে যায় না, তারা আলো দেয় সাহসের, স্বপ্নের, আর দেশপ্রেমের পথে।”