আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি নেতা বনে যাওয়া সোহাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়
কাস্টমস হাউসের পিয়ন থেকে কোটি টাকার মালিক: বেনাপোলের সোহাগের অবৈধ ব্যবসা ও অপ্রত্যাশিত সম্পদ
বেনাপোল, যশোর থেকে প্রতিবেদক:
যশোরের বেনাপোল এলাকায় সামান্য পিয়ন পদে কর্মরত সোহাগ বর্তমানে কোটি কোটি টাকার মালিক। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, তিনি মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায় জড়িত এবং ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমন এক সম্পদ অর্জন কিভাবে সম্ভব, তা নিয়ে এলাকায় বিস্তৃত প্রশ্ন উঠেছে।
অতীত ও কাস্টমস হাউস সময়কাল
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহাগ কয়েক বছর আগে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে পিয়নের পদে ছিলেন। সে সময় অফিসারদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় এবং কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকিতে সরাসরি সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছিল। পরে কাস্টমস কমিশনার খালেদ হোসেন তাকে বরখাস্ত করেন।
অবৈধ সম্পদ ও ব্যবসায়িক প্রভাব
গ্রামবাসীর মতে, বরখাস্ত হওয়ার পরও সোহাগ অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার ভাগ্নের উপস্থিতিতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং ভোট প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“সোহাগ সামান্য পিয়ন থেকে এত সম্পদ অর্জন করেছে, যা সাধারণ মানুষের ধারণার বাইরে। তার কর্মকাণ্ড গ্রামে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।”
এছাড়া, তার রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর ফলে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব বিস্তার করছেন।
আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অভিযোগ যাচাই করছে এবং প্রমাণিত অবৈধ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কার্যকর পদক্ষেপের জন্য নিম্নলিখিত দিকনির্দেশনা জরুরি:
সম্পদের উৎস যাচাই করা
নিয়মিত নজরদারি চালানো
গ্রামবাসীকে সচেতন করা
প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
কিভাবে একজন সামান্য পিয়ন থেকে কোটি টাকার মালিক হতে পারে, তা এখনও ধাঁধার মতো। তবে গ্রামবাসী এবং প্রশাসন উভয়ই আশা করছেন, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।