• শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যশোরের বেনাপোলে মোটরসাইকেল মিছিল করেছেন স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫ ও ৮৯১-এর নেতাকর্মীরা। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায়

তৌকিরের না-ফেরার যাত্রা: ক্ষমার ভাষায় স্ত্রীর শেষ আর্তি

Reporter Name / ২৬৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

তৌকিরের না-ফেরার যাত্রা: ক্ষমার ভাষায় স্ত্রীর শেষ আর্তি
Daily Prothom Bangladesh প্রতিবেদক | ২৪ জুলাই ২০২৫

একজন স্বপ্নবাজ পাইলট, এক নবদাম্পত্যের শুরুতে জীবনের মাঝপথে থেমে গেল তাঁর গতি। পাইলট তৌকির আহমেদ—যিনি আকাশে ডানা মেলেছিলেন দেশের জন্য, ভালোবাসার মানুষটির জন্য, তার আর ফেরা হলো না। বিমান দুর্ঘটনার মর্মান্তিক শিকার হয়ে বিদায় নিয়েছেন এই তরুণ প্রাণ। আর সেই বিদায়ের পরে, এক হৃদয়বিদারক বার্তায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন তার নবপরিণীতা স্ত্রী।

তিনি বলেন—
“আমাদের বিয়ের মাত্র ছয় মাস হয়েছে। সংসার কি, তা বুঝে ওঠার আগেই সে চলে গেছে। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আপনারা যদি ক্ষমা করেন, হয়তো সে বেহেস্তে চলে যেতে পারবে।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন গোটা জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। নিঃশব্দ কান্নায় ভেসে গেছে হাজারো হৃদয়।

তৌকির শুধু একজন পাইলট ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন সাহসী দেশপ্রেমিক—যিনি প্রতিদিন আকাশে ওড়ার আগে মাকে ফোন করে বলতেন, “দোয়া কইরো, আজও যেন ঠিকঠাক নামতে পারি।” এমন ছিল তার ভেতরের ভয় আর বাহিরের সাহসের সঙ্গম।

বাংলাদেশের আকাশরক্ষীদের একজন হয়ে তিনি যে শেষ যাত্রায় পাড়ি দিলেন, সেটি যেন একটি ভালোবাসার অপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রইল। স্ত্রী তার চোখের জল নিয়ে লিখলেন ভালোবাসার শেষ চিঠি—ক্ষমা করে দিতে বললেন জাতিকে, যেন মৃত্যুর ওপারে শান্তি পায় তার ভালোবাসার মানুষটি।

তৌকিরের মৃত্যু আমাদের জন্য শুধুই একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি একটি জাতীয় বেদনা। এ জাতি প্রতিদিন দেখে আত্মত্যাগের গল্প—কিন্তু খুব কম দিনই এমনভাবে হৃদয় ছুঁয়ে যায় কোনো বিদায়।

তৌকিরের স্ত্রীর কান্না আজ এ দেশের প্রতিটি বিবেকবান নাগরিকের হৃদয় কাঁপিয়েছে। তাঁর শেষ আবেদন—
“ক্ষমা করে দিন ওকে… তাহলেই বোধহয় সে শান্তি পাবে।”

এই আবেদন, এই অনুরোধ—আজ আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ছে।

তৌকির আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আমরা ভুলবো না। ভালোবাসা আর ক্ষমার মিশেলে তোমার গল্প বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে।

—

“যারা আকাশে উড়তে শেখায়, তারা মাটির টানে হারিয়ে যায় না—তারা হয়ে ওঠে ইতিহাস।”
🕊️


More News Of This Category
bdit.com.bd