• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০২:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
মরহুম আলহাজ্ব নাজির হোসেনের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী ৭ আগস্ট স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফজলুল হক; সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের আহ্বান ঢাকা রাজনীতিতে ‘নয়ন ফ্যাক্টর’: সমালোচনা, রাজপথের উপস্থিতি এবং উদীয়মান বাস্তবতা ৫ আগস্টের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিজয়ের দিন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা ও অঙ্গীকার দেশের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, আইন মেনে তালাকের পর সাবেক স্ত্রীর হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা: বৃদ্ধ মায়ের জীবন শঙ্কায়, আতঙ্কে পুরো পরিবার বন্দর এলাকা, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সীমান্তপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে প্রশংসায় ভাসছেন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মো. রাশেদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান

আড্ডা থেকে পড়ার টেবিলে: হাতিয়ার ইউএনও আলাউদ্দিনের ব্যতিক্রমী সমাজ সচেতনতা মডেল

Reporter Name / ২৯৪ Time View
Update : রবিবার, ২০ জুলাই, ২০২৫

 


আড্ডা থেকে পড়ার টেবিলে: হাতিয়ার ইউএনও আলাউদ্দিনের ব্যতিক্রমী সমাজ সচেতনতা মডেল

নোয়াখালী, হাতিয়া | মাহিদুল ইসলাম হিমেল

শুক্রবার রাত। সময় প্রায় ৯টা।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার একটি পুকুরপাড়ে চার কিশোর বসে আছে—মুঠোফোনে গেম, গলা ছেড়ে আড্ডা, যেন শহুরে সন্ধ্যার চেনা দৃশ্য। কিন্তু আচমকাই সে দৃশ্য বদলে যায়।
হঠাৎ সেখানে হাজির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন। তিনি কিশোরদের কাছে গিয়ে পরিচয় নেন, কথা বলেন—তারপর একেবারে সরাসরি বসিয়ে দেন পড়ার টেবিলে!

একটা বাস্তব ঘটনা—যা শুনলে গল্প মনে হয়, কিন্তু তা হয়ে উঠেছে প্রশাসনের মানবিকতাপূর্ণ ব্যতিক্রমী এক দৃষ্টান্ত।


“শাস্তি” নয়, শিক্ষা ও সচেতনতা—এক প্রশাসক, এক মানবিক চিন্তা

চার কিশোরের বয়স ১৫ থেকে ১৭-এর মধ্যে, সদ্য এসএসসি পরীক্ষা শেষ করেছে। আমাদের সমাজে সন্ধ্যার পর রাস্তায় ঘোরা কিশোরদের অনেক সময়ই “উচ্ছৃঙ্খল” ভাবা হয়। কিন্তু ইউএনও আলাউদ্দিন বেছে নিলেন ভিন্ন পথ।

কঠোর আইন প্রয়োগের পরিবর্তে তিনি নিজ বাসভবনের সামনে বসিয়ে দিলেন পড়তে। হাতে খাতা-কলম, টেবিলে বই—এ যেন এক ব্যতিক্রমী পাঠশালা।


সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা ও বিতর্ক দুই-ই

পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে ঘটনাটির ছবি পোস্ট করা হয়। কমেন্ট সেকশনে দেখা যায়, বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ স্পষ্ট।

  • এক শ্রেণি বলছেন—“এটাই চাই, প্রশাসন যেন সমাজ গড়ার অংশীদার হয়।”
  • আবার কেউ বলছেন—“ইউএনও কি শিক্ষক? এমন কাজ কি ক্ষমতার অপপ্রয়োগ নয়?”

নীতিনির্ধারণ বনাম শৃঙ্খলা—প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন করে হাজির

মূল প্রশ্নটা এখন দাঁড়িয়েছে—একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কতটা ‘শিক্ষকসুলভ’ ভূমিকা নিতে পারেন? এর মাধ্যমে প্রশাসনের গঠনমূলক অংশগ্রহণ কি শুরু হলো, না কি এটি এক ধরনের মাইক্রো-ম্যানেজমেন্ট?

ইউএনও আলাউদ্দিনের বক্তব্য সরল:
“ওরা ছাত্র। কঠিন শাস্তি দিয়ে নয়, বোঝানোর মাধ্যমে যেন ভুল বুঝতে পারে—এই চেষ্টাই করেছি। ভবিষ্যতে আবারও এমন কাউকে পেলে পড়ার টেবিলেই বসাব।”


এক রাতের ব্যতিক্রম, না কি দীর্ঘমেয়াদী উদাহরণ?

প্রশাসন মানেই কাগজপত্র, ফাইল, শাস্তি—এই একরৈখিক ধারণা বদলানোর সময় এসেছে কি না, সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।
ইউএনও আলাউদ্দিন হয়তো প্রশাসনিক রুলবুক অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণ করেননি, কিন্তু মানুষের মন জয় করেছেন—একজন অভিভাবকের মতো।


শেষ কথা: মানবিক প্রশাসন চাই, তবে কাঠামোর ভেতরেই

এই ঘটনাটি প্রশাসনের এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়। সমাজের আগামী প্রজন্মের জন্য এমন হস্তক্ষেপ যদি কাঠামোবদ্ধ হয়, তাহলে এটি “ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা” থেকে রূপ নিতে পারে একটি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে—যেখানে পুলিশ নয়, ‘পড়ার টেবিল’ দিয়েই শুরু হয় সমাজ বদলের চাবিকাঠি।

এক রাতের আড্ডা থেকে পাঠশালায়—এই রূপান্তর যদি দৃষ্টান্ত হয়, তবে সেই পথে প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল, আরও মানবিক হতে হবে।


প্রতিবেদক: মাহিদুল ইসলাম হিমেল
স্থান: হাতিয়া, নোয়াখালী
 ১৯ জুলাই ২০২৫


More News Of This Category
bdit.com.bd