• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট চসিকের ৪৬ গাড়ি মেরামতের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাস মাদারীপুরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযো চট্টগ্রাম গণপূর্তে দরপত্র সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সম্পদ ও বিল পরিশোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন মোহাম্মদপুরে সাবলেট বাসায় নারী ও এক বছরের শিশুর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

মাদারীপুরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযো

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৪ Time View
Update : রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৬

 

নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, খাদ্যশস্য সংগ্রহে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ; সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুদকের চিঠি পাঠানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ

মাদারীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি লাভ, নিয়োগ বাণিজ্য, ঘুষ গ্রহণ, খাদ্যশস্য সংগ্রহে অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ জিকরুল আলমের চাকরিতে নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন এবং সম্পদ অর্জন—বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন শেখ জিকরুল আলম। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে এবং পরবর্তী সময়ে দুদক নিয়োগসংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে প্রায় ৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি প্রথমে নিজ জেলা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় পদায়ন পান। পরবর্তী সময়ে ফরিদপুর সদর, বাগেরহাটের মোল্লাহাট ও ঢাকাসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তার নিয়োগ বা পদায়নে কোনো বেআইনি প্রভাব খাটানো হয়েছিল কি না, তা সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।

খাদ্যশস্য সংগ্রহ ও বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ

শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের সময় ওজনে কারচুপি, ভালো মানের খাদ্যশস্যের পরিবর্তে নিম্নমানের পণ্য গ্রহণ এবং মিল মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি বরাদ্দ ছাড় করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া মিল মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ দাবি, অর্থ না দিলে হয়রানি এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় ফেলার অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট খাদ্যগুদামের মজুত ও গ্রহণ রেজিস্টার, মান পরীক্ষার প্রতিবেদন, বরাদ্দ ও ছাড়পত্র, বিল-ভাউচার এবং ব্যাংক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

পদোন্নতি ও মাদারীপুরে যোগদান নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি পেয়ে মাদারীপুরে যোগদান করেন শেখ জিকরুল আলম। তার বিরুদ্ধে পূর্ববর্তী কর্মস্থলগুলোতে অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে পদোন্নতি ও নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পেলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবেদনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা জানতে পদোন্নতি-সংক্রান্ত আদেশ, বিভাগীয় তদন্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন।

অবৈধ সম্পদ ও স্বজনদের নামে সম্পদ রাখার অভিযোগ

প্রতিবেদনে শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে ঢাকা ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট ও জমি অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সম্পদের কিছু পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের নামে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ পৌরসভার মিয়াপাড়া এজি মিশন রোডে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মাণের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়িটির মালিকানা, নির্মাণব্যয় এবং অর্থের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, শেখ জিকরুল আলমের স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও কয়েকজন আত্মীয়ের নামে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। তবে দুদকের অনুসন্ধানের বর্তমান অবস্থা, চিঠির বিষয়বস্তু এবং কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—তা কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

খাদ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতীতে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহারের মাধ্যমে শেখ জিকরুল আলম বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, খাদ্যশস্য সংগ্রহ, বরাদ্দ ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের উৎস—সব বিষয় একসঙ্গে যাচাই করা হলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ জিকরুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ-এর পক্ষ থেকেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তার কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা প্রাসঙ্গিক নথি পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

ডিবিপিএস-এর পর্যবেক্ষণ: সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ, নথিপত্র ও নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। দুদক ও খাদ্য অধিদপ্তরের কাছে অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি জনসমক্ষে জানানোর দাবি জানাচ্ছে দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমাদের মাতৃভূমিতে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন: https://dailyamadermatribhumi.com/article/212943

বিশেষ নোট: এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো প্রকাশিত সংবাদসূত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগগুলো আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন করা হবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd