• মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্য: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের শ্রদ্ধাঞ্জলি নারীর মেসেঞ্জারে পুরুষাঙ্গের ছবি পাঠানোর অভিযোগ মোঃ দিদারের বিরুদ্ধে, সাইবার আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, মালিকানা ও ট্রাস্ট নিয়ে পুরোনো বিরোধ: ২০১৪ সালের জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে একাধিক গুরুতর অসংগতি ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের পথ বন্ধে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মাদক-সন্ত্রাস, দখলবাজি ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়তে ফখরুল ইসলাম এমপির আহ্বান হাতিয়ায় জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ উদযাপন: যুব র‍্যালি, ঋণের চেক বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ৮ মামলার বাধা পেরিয়ে এবার ইলিয়টগঞ্জ উত্তর ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দুলাল সরকার বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ, থোয়াইচিং মং শাককে সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের কারণ দর্শানোর নোটিশ মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: এমপি নূরুল ইসলাম নয়ন

সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্য: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট / ৫ Time View
Update : সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬

 

সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্য: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান; অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে সম্মিলিত ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ভূমিকা, নেতৃত্বের দূরদর্শিতা, প্রশাসনিক জবাবদিহি, পেশাদারত্ব এবং জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয়।

রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর মতে, পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশকে শুধু বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করলেই চলবে না; ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আগাম ধারণা, কৌশলগত প্রস্তুতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের সক্ষমতাও অর্জন করতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) ঢাকার বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “বাংলাদেশের আরও সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার যাত্রায় মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় স্বার্থ অর্জনে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।”

নেতৃত্বের মান ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতাই উন্নয়নের ভিত্তি

রাষ্ট্র পরিচালনায় নেতৃত্বের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দায়িত্বশীল নেতৃত্বের কাজ শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাতীয় প্রয়োজন অনুধাবন, ভবিষ্যৎ ঝুঁকি চিহ্নিত করা, জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করাও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে মানসম্মত নেতৃত্বের পাশাপাশি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের ওপর যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের আলোচনায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হয়। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিশ্চিত করা না গেলে উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জনগণের অধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হতে পারে।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মূল দর্শনেও এই বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি উন্নয়নকে কেবল একটি অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে না দেখে রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা, ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত করে তুলে ধরেছেন।

জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান

বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশের জন্য জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক মতপার্থক্য, সামাজিক বৈচিত্র্য কিংবা ভিন্ন চিন্তাধারা থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। এর অর্থ হলো, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের কল্যাণের মতো মৌলিক বিষয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।

জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সহনশীলতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একটি রাষ্ট্রের শক্তি শুধু তার সামরিক বা অর্থনৈতিক সক্ষমতায় নয়; বরং নাগরিকদের আস্থা, সামাজিক সংহতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশ্বাসের মধ্যেও নিহিত থাকে।

রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারী, যুবসমাজ, শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণ ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়।

জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা এখন আর শুধু সামরিক প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় নিরাপত্তার পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরেন। বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা আগের তুলনায় অনেক বিস্তৃত হয়েছে। সামরিক প্রতিরক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, পরিবেশের ভারসাম্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হামলা, সন্ত্রাসবাদ, আন্তদেশীয় অপরাধ, মহামারি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, সমুদ্রসম্পদ, অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রাষ্ট্রপতি মনে করেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলা জরুরি। অর্থাৎ কোনো সংকট দেখা দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানানোর পরিবর্তে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত করে প্রস্তুতি গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন

একটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা তার জনগণের খাদ্য ও জ্বালানি প্রাপ্যতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, আঞ্চলিক সংঘাত কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে।

বাংলাদেশের জন্য খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, জ্বালানির বহুমুখী উৎস অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নতুন প্রস্তুতির তাগিদ

প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন বিশ্বব্যবস্থার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং সাইবার সক্ষমতা এখন আধুনিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষ করে সাইবার হুমকি, ভুল তথ্য, অপতথ্য এবং ডিজিটাল মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্যের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তৈরিতে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকা

ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২৬ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২৬-এর অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি কৌশলগত দূরদর্শিতা, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বুদ্ধিবৃত্তিক উদারতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার সক্ষমতাসম্পন্ন নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একত্রিত করে মতবিনিময় ও সমসাময়িক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অভিন্ন ধারণা তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার সক্ষমতা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি অংশগ্রহণকারীদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব, সততা, শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি: সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বয়

রাষ্ট্রপতি জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, জাতীয় মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালিত হওয়া উচিত।

তবে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অর্থ আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। বরং সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং উভয় পক্ষের স্বার্থের ভিত্তিতে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রবাসী কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই জাতীয় স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি বহুপাক্ষিক সম্পর্ক, কূটনৈতিক সংলাপ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিও গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি আন্তর্জাতিক কোর্সে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ ও তাঁদের নিজ নিজ দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, জাতিসমূহের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পৃক্ততায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং ১৯৭৭ সালে ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পেশাদার সামরিক শিক্ষা বিকাশে তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী এবং গত ১৭ বছরে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করেন তিনি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ দেশের সেবায় আত্মত্যাগকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন সময়ে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের অবদান স্মরণ করার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি দেশের ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার ধারাবাহিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন: উন্নয়নের সুফল পৌঁছাতে হবে সব মানুষের কাছে

একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্রের পরিচয় শুধু বড় অবকাঠামো, শিল্পায়ন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে নির্ধারিত হয় না। দেশের সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ, কতটা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কতটা সহজলভ্য, নাগরিক অধিকার কতটা সুরক্ষিত এবং উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরে কতটা পৌঁছাচ্ছে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার যে ধারণা উঠে এসেছে, তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ করে তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, কৃষি ও শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

একই সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় পরিবেশগত ভারসাম্য, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ টেকসই উন্নয়ন মানে বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্যও নিরাপদ ও কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

বক্তব্যের বাস্তবায়নেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে উঠে আসা মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ঐক্য, কৌশলগত দূরদর্শিতা এবং জাতীয় স্বার্থের বিষয়গুলো বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

তবে এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু বক্তব্য বা নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের আস্থা।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রায় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তি, শিক্ষা, মানবসম্পদ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করাও সময়ের দাবি।

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতাকে সংঘাতের ওপর, সংলাপকে মতবিরোধের ওপর এবং শান্তিকে সংঘর্ষের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম বাংলাদেশ গঠনের জন্য নেতৃত্বের গুণগত মান, প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, জাতীয় স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সমন্বিত প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। এখন এসব নীতিগত প্রত্যাশা বাস্তব রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কতটা প্রতিফলিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।


More News Of This Category
bdit.com.bd