• রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট চসিকের ৪৬ গাড়ি মেরামতের দরপত্রে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশ্নের মুখে নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল চন্দ্র দাস মাদারীপুরের উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শেখ জিকরুল আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযো চট্টগ্রাম গণপূর্তে দরপত্র সিন্ডিকেটের অভিযোগ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেনের সম্পদ ও বিল পরিশোধ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন মোহাম্মদপুরে সাবলেট বাসায় নারী ও এক বছরের শিশুর ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ সংসারের সমীকরণে বড় প্রশ্ন! ৫০ লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই সন্তানের ভরণপোষণ দাবি, ঢাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রীর মামলা সৌদি আরবে পাঠানোর নামে ১৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, সর্বস্বান্ত প্রবাসী মিলন মাহফিলে বক্তার পেছনে লাখ টাকা ব্যয়, অথচ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ানো ইমামদের বেতন নিয়ে অবহেলার অভিযোগ; স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাঙ্গুনিয়ায় যুবদলের বিক্ষোভ টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের বড় ধাক্কা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে

জামাত এবং বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বগুড়ায় রেলওয়ের জলাশয় দখলের মহোৎসব ও অস্তিত্ব সংকটে পরিবেশ

বিশেষ প্রতিনিধি বগুড়া / ২৫৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

 

জামাত এবং বিএনপির নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ বগুড়ায় রেলওয়ের জলাশয় দখলের মহোৎসব ও অস্তিত্ব সংকটে পরিবেশ
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক

তারিখ: ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬

স্থান: বগুড়া

ভূমিকা: দখলের নীল নকশা
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় সরকারি সম্পদ ও প্রাকৃতিক জলাশয় গ্রাসের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত কাইলার বাজার এলাকার প্রায় ২ একর আয়তনের একটি বিশাল সরকারি জলাশয় এখন স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কবলে। রেলওয়ের স্পষ্ট নীতিমালা ও আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের এক অশুভ আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে।

প্রেক্ষাপট ও ঘটনার বিবরণ
দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে বগুড়ায় রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ জমি ভূমিদস্যুদের কবলে চলে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার নজর পড়েছে শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত কাইলার বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই জলাশয়টির দিকে। জুলাই পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী চক্র নব্য ভূমিদস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, জলাশয়টির একপাশে ইতোমধ্যে টিনের বেড়া দিয়ে দখল প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং রাতের আঁধারে ময়লা-আবর্জনা ও বালু ফেলে ভরাট কাজ শুরু হয়েছে।

আইন ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন
রেলওয়ের নিজস্ব বিধান অনুযায়ী এই দখল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এখানে প্রধানত দুটি নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে:

১. রেলওয়ে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২০ (ধারা ২৯): এই ধারা অনুযায়ী, রেলওয়ের কোনো পুকুর, ডোবা বা জলাশয় যদি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, তবে তা কোনো অবস্থাতেই ভরাট করা যাবে না।

২. নীতিমালার ধারা ১৬ (খ): এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কৃষি বা মৎস্য চাষের জন্য লিজ নেওয়া জমি বা জলাশয় কখনোই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে (যেমন: মার্কেট নির্মাণ) ব্যবহার করা যাবে না।

অভিযোগ রয়েছে, এই জলাশয়টিকে বাণিজ্যিক প্লট হিসেবে দেখিয়ে লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে, যা সরাসরি আইনের পরিপন্থী।

অভিযুক্তদের প্রোফাইল ও প্রশাসনিক যোগসাজশ
এই দখল প্রক্রিয়ার নেপথ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নাম উঠে এসেছে:

রাজনৈতিক সিন্ডিকেট: প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক খায়রুল বাশার এবং সাবেক কাউন্সিলর ও জামায়াত নেতা এরশাদুল বারী এরশাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট এই জলাশয়টি দখলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

প্রশাসনিক মদদ: অভিযোগের তীর রেলওয়ের স্থানীয় কর্মকর্তাদের দিকেও। বিশেষ করে বগুড়ার ৩ ও ৪ নং কাছারি অফিসের কানুনগো গোলাম নবীর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুদের নথিপত্র দিয়ে এবং আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও অভিযুক্ত নেতারা দাবি করেছেন যে তারা ‘বৈধ উপায়ে’ লিজের আবেদন করেছেন, তবে রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ লিজের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

পরিবেশগত ঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ
জলাশয়টি ভরাট করা হলে কেবল সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হবে না, বরং ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে:

জলাবদ্ধতা: জলাশয়টির চারপাশে প্রায় ৮০টি বসতবাড়ি রয়েছে। এই পুকুরটিই ছিল ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের প্রধান আধার। এটি ভরাট হলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে।

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস: বিশাল এই জলাশয়টি স্থানীয় জীববৈচিত্র্য ও পানির স্তর ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে, যা ভরাট হলে ভারসাম্য হারাবে প্রকৃতি।

স্থানীয় ক্ষোভ: স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে তারা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে না পারলেও এই জলাশয় রক্ষা করা এখন তাদের জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পশ্চিম) মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান:

“জলাশয় দখলের চেষ্টা সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। কাউকে কোনো লিজ প্রদান করা হয়নি। লালমনিরহাট ডিভিশনাল এস্টেট অফিসারকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে মামলাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বগুড়ার কাইলার বাজার এলাকার এই জলাশয়টি কেবল একটি পানির আধার নয়, এটি সরকারি সম্পদ ও পরিবেশের প্রতীক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে যেভাবে লুটপাটের মহোৎসব চলছে, তা এখনই রুখে দেওয়া প্রয়োজন। একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর গড়ার স্বার্থে এই দখলদারদের হাত থেকে রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা করা এখন সময়ের প্রাণের দাবি। উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জিরো টলারেন্স নীতিই পারে এই প্রাকৃতিক সম্পদটিকে রক্ষা করতে।


More News Of This Category
bdit.com.bd