নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। দলটির ঘোষিত বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ও দেশজুড়ে চলমান ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ এবং জনগণের সার্বভৌম অধিকারই হবে বিএনপির প্রথম অগ্রাধিকার।
১. ‘সবার আগে বাংলাদেশ’: সার্বভৌম কূটনীতি
তারেক রহমান বলেন, “বিএনপির পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি একটাই— সবার আগে বাংলাদেশ। আমার জনগণ, আমার দেশ, আমার সার্বভৌমত্বকে অক্ষুণ্ণ রেখে এবং এই স্বার্থকে সর্বোচ্চ বিবেচনা করেই বাকি সব সম্পর্ক নির্ধারিত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে প্রতিবেশীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই হবে আগামীর কূটনীতির মূল চালিকাশক্তি।
২. রাজনীতির মূল লক্ষ্য: জনগণের অধিকার ও উন্নয়ন
বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করার পাশাপাশি জনগণের জীবনমান উন্নয়নই তাঁদের অগ্রাধিকার। এই লক্ষ্যে তিনি কয়েকটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপের রূপরেখা দিয়েছেন:
কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড: এক কোটিরও বেশি কৃষকের জন্য সরাসরি ভর্তুকি নিশ্চিতে ‘কৃষক কার্ড’ এবং তৃণমূলের নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে।
স্বাস্থ্য বিপ্লব: ‘হেলথ কার্ড’ প্রবর্তনের মাধ্যমে সবার জন্য সুলভ চিকিৎসা এবং ১ লক্ষ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্মার্ট কর্মসংস্থান: ‘ল্যাপটপ টু লাইভলিহুড’ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের আইটি খাতে দক্ষ করে ৮ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩. রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ‘৩১ দফা’
তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গঠনের অঙ্গীকার করেছেন। এর প্রধান স্তম্ভগুলো হলো:
ক্ষমতার ভারসাম্য: কোনো ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।
দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ: অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠন।
স্বাধীন বিচার বিভাগ: বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও সম্পূর্ণ স্বাধীন করা।
৪. মাঠ পর্যায়ে জনগণের আস্থা
সারাদেশে বর্তমানে বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমানের এই পরিকল্পনাগুলো লিফলেট ও কর্মশালার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি এখন তৃণমূলের মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
উপসংহার: তারেক রহমানের মতে, রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি হতে হবে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং দেশের সম্পদকে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করার মাধ্যম। তাঁর এই দূরদর্শী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
❝করবো কাজ, গড়বো দেশসবার আগে বাংলাদেশ।❞