হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটিতে হট্টগোল: ‘ডিম থেরাপি’ বনাম ‘রাজনৈতিক নাটক’ নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা রাজধানীর হাবিবুল্লাহ বাহার ইউনিভার্সিটির পিঠা উৎসবকে কেন্দ্র করে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিনা আমন্ত্রণে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, শিক্ষার্থীদের ‘টোকাই’ সম্বোধন এবং পরবর্তীতে ডিম নিক্ষেপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও ‘টোকাই’ বিতর্ক
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন যেখানে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের আমন্ত্রণ ছাড়াই সেখানে উপস্থিত হন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পাটোয়ারী। শিক্ষার্থীরা তাকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘টোকাই’ বলে সম্বোধন করেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
‘ডিম নিক্ষেপ’ ও পরবর্তী নাটকীয়তা
শিক্ষার্থীদের অবমাননা করার প্রতিবাদে সংক্ষুব্ধ ছাত্ররা পাটোয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এই ঘটনার পর তাকে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; এমনকি চলন্ত বাস থেকেও তাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল ছুড়ে মারার খবর পাওয়া গেছে।
অসংগতি ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগ
ঘটনার পর পাটোয়ারী ও তার অনুসারীদের পক্ষ থেকে ছাত্রদল ও মির্জা আব্বাসের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হলেও এর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যান্ডেজ করা ছবি নিয়ে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন— ডিমের আঘাতে কীভাবে এমন গুরুতর জখম হয় যা ডজনখানেক সেলাইয়ের মতো ব্যান্ডেজ প্রয়োজন পড়ে?
এছাড়া তার সাথে থাকা সহযোগীদের পরিচয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের কাছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘গ্যাংস্টার’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই ‘ব্যক্তিগত দেউলিয়াত্ব’ এবং ‘সস্তা রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন।
জনমনে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতে, উচ্চশিক্ষিত দাবিদার কারো কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতি ‘টোকাই’ শব্দ ব্যবহার অনভিপ্রেত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য কৃত্রিম ব্যান্ডেজ বা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর সংস্কৃতি সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়।