সেনাবাহিনীর শীর্ষ ৬ পদে রদবদল
কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন গতি
স্টাফ রিপোর্টার:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী-এর শীর্ষ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সেনা সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। সামরিক প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এই পরিবর্তনকে নিয়মিত রোটেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট মহলে এটিকে কৌশলগত পুনর্বিন্যাস হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি)-এর কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হককে কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর রসদ, সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার প্রধান হিসেবে কিউএমজি পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন দায়িত্বে তিনি সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি ও রসদ ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় আনবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কিউএমজির দায়িত্বে থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানকে এনডিসিতে কমান্ড্যান্ট হিসেবে বদলি করা হয়েছে। এনডিসি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক ও বেসামরিক নীতি-নির্ধারকদের জন্য কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। ফলে এ পদে অভিজ্ঞ কর্মকর্তার নিয়োগ সামরিক নীতিনির্ধারণ ও কৌশলগত গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)-এর কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিরক্ষা কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
পাশাপাশি ১৯ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসেন আল মোরশেদকে সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল (এজি) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এজি শাখা সেনাবাহিনীর জনবল ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নীতিমালা ও কল্যাণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব পালন করে থাকে। ফলে এ পদে নতুন নিয়োগ সেনাসদস্যদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হাকিমুজ্জামানকে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে এমআইএসটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার নেতৃত্বে সামরিক প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।
এছাড়া ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে লজিস্টিক এরিয়ার জিওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সামগ্রিক রসদ ব্যবস্থাপনা ও অপারেশনাল সহায়তায় লজিস্টিক এরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তার অভিজ্ঞতা এ খাতে কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের রদবদল একদিকে যেমন নেতৃত্বের বিকাশ নিশ্চিত করে, অন্যদিকে বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সুষম বণ্টন ঘটায়। নিয়মিত রোটেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মকর্তারা বহুমাত্রিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান, যা সামগ্রিকভাবে বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
সেনা সদর দপ্তর সূত্রে আরও জানা গেছে, এ রদবদল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আধুনিকায়ন ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীতে একাধিক কাঠামোগত সংস্কার ও পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শীর্ষ পর্যায়ের এ পরিবর্তন সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।