প্রতিবেদন | শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
সাংবাদিকতা মানেই শুধু প্রচার নয়—সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও সাংবাদিকের দায়িত্ব
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছে: দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫:
বর্তমান বিশ্বের তথ্য প্রবাহ যত দ্রুতগামী হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা ততটাই হয়েছে বহুমাত্রিক ও জটিল। একদিকে যেমন সাংবাদিকতা সত্য ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের অঙ্গীকার, তেমনি এর অপরিহার্য একটি দিক হলো সাধারণ মানুষের সম্মান, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার সুরক্ষা। আর এই নৈতিক দ্বায়বদ্ধতাকেই নতুনভাবে সামনে এনেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মোঃ শাহজাহান বাশার।
তাঁর ভাষায়, “সাংবাদিকতা কেবল তথ্য প্রচারের কাজ নয়—এটি একটি দায়িত্ব, একটি ব্রত, একটি সাহসী সমাজসেবার নাম।” এই বক্তব্যে যেন প্রতিফলিত হয় সেই সাংবাদিকতার চেতনাই, যেটি শুধু শিরোনামে থেমে থাকে না, বরং মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনে।
বিশেষত বর্তমান সময়ে, যখন গুজব, মিথ্যা তথ্য ও সেনসেশনাল হেডলাইন ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যম অনেক সময় দায়িত্ববোধ হারাচ্ছে, তখন সৎ সাংবাদিকতার মূল্য হয়ে উঠেছে অপরিসীম। সাংবাদিক বাশারের মতে, “একজন সৎ ও বিবেকবান সংবাদকর্মীর কাজ হলো সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা, যাতে কারো নিরাপত্তা বা মানহানি না ঘটে।”
এ প্রসঙ্গে আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনগণের জানার অধিকার থাকলেও, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও সম্মানের প্রতি সংবিধান ও প্রচলিত আইন যথাযথ সুরক্ষা প্রদান করে। ফলে, সাংবাদিকের নৈতিক দায়বদ্ধতা শুধু সামাজিক নয়, এটি একপ্রকার আইনি দায়িত্বও বটে।
মোঃ শাহজাহান বাশার আরও বলেন, “সাংবাদিকতা মানেই বড় মানুষের খবর নয়—পাড়া-মহল্লার ছোট সমস্যা, গ্রামের কোন এক বঞ্চিত মানুষের অসহায়তা কিংবা নীরব প্রতিবাদও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্র হতে পারে।” এ বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় সেই সাংবাদিকতার ঐতিহ্য, যা ‘নিচের কণ্ঠকে’ তুলে আনার মাধ্যমেই সমাজে পরিবর্তন আনে।
আজকের তরুণ সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি সরল, অথচ গভীর আহ্বান রেখেছেন: “সংবাদ লেখার আগে ভাবুন, এতে কারো ক্ষতি হচ্ছে কি না। আপনার একটি লাইন বদলে দিতে পারে কারো জীবনের গতি।”
এই বিবেকনির্ভর সাংবাদিকতা কেবল প্রতিবাদী নয়, তা হতে পারে মানবিক এবং আশাব্যঞ্জক। গোপন তথ্য ফাঁসের মতো কাজ যেখানে অপরাধ উন্মোচনে সহায়ক, সেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাও সাংবাদিকতার অন্তর্গত।
আজ যখন অনেক সংবাদমাধ্যম ‘ব্রেকিং নিউজ’ আর ভিউয়ের দৌড়ে বিবেক বিসর্জন দেয়, তখন সাংবাদিক বাশারের এই বক্তব্য যেন সতর্কতামূলক এক ঘণ্টাধ্বনি: “কলম হোক প্রতিবাদের হাতিয়ার, আবার হোক মানুষের নিরাপত্তার সাথী।”
সাংবাদিকতা কোনো শখ নয়, এটি দায়িত্ব, নৈতিকতা এবং জনসেবার ক্ষেত্র। সত্য বলা যেমন অপরিহার্য, তেমনি মানবিকতা বজায় রাখা ততটাই জরুরি। রাষ্ট্র যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ, তাঁদের কণ্ঠস্বর হতে হবে সাংবাদিকদেরই।
সুতরাং, আমাদের সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র হোক—“সত্য বলি, তবে সংবেদনশীলতা ভুলে নয়।” এই দেশ আমাদের, এই মানুষগুলো আমাদেরই। তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার মধ্যেই নিহিত সাংবাদিকতার প্রকৃত সৌন্দর্য।