• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে সতর্ক থাকবে বিএনপি

Reporter Name / ৩৭৬ Time View
Update : রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫

 

অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট :সঠিক প্রার্থী বেছে নিতে সতর্ক থাকবে বিএনপি,জনপ্রিয়তা, দলীয় নেতাদের মতামত, দলের জন্য নিবেদিত কি না, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান-ত্যাগ, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জনমত জরিপকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে,এবং অতীত এ বহিষ্কার রেকর্ড আছে কি না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনগুলোতে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। ২০২৬ সালে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ে সতর্ক দলটি। ইতোমধ্যে সংসদীয় আসনগুলোতে একাধিক জরিপও সম্পন্ন করেছে। নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের খসড়া তালিকা নিয়ে চলছে দলের হাইকমান্ডে নানা পর্যালোচনা।

দেশে গত দেড় দশকে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তার একটিতে অংশ নিলেও শেষ দুটি নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। এই দীর্ঘ সময়ে দলটির নেতাকর্মীদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে রয়েছে ঘাটতি। প্রার্থী নির্বাচনে এবারে সে দিকটিও বিবেচনায় রেখেছে বিএনপি। মাঠ পর্যায়ের ঘাটতি পোষাতে তাই প্রার্থী বাছাইয়ে একাধিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। এর মধ্যে স্থানীয় জনপ্রিয়তা, দলীয় নেতাদের মতামত, দলের জন্য নিবেদিত কি না, আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান-ত্যাগ, দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকা, সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও জনমত জরিপকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে,এবং অতীত এ বহিষ্কার রেকর্ড আছে কি না,এসব পদ্ধতি প্রয়োগ করেই দলটি প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জানা যায়, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রতিটি আসনে গড়ে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। এবারও প্রতিটি আসনেই একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নেমেছেন গণসংযোগে। ফলে বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, প্রার্থী বাছাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য এবারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতামত ও জনমত জরিপকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Google News গুগল নিউজে প্রতিদিনের বাংলাদেশ”র খবর পড়তে ফলো করুন

এবারে বিএনপি এমন কাউকে প্রার্থী করবে না, যিনি মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় গেলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের রোষের শিকার হবেন। নির্বাচনী আসনে ‍যিনি বেশি জনপ্রিয় নেতা, যাকে জনগণ চাইবে, যাকে দিয়ে আসন উদ্ধার হবে বিএনপি এবার তাকেই মনোনয়ন দিতে চাইছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে যারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করেছে, দলের সঙ্গে বেইমানি করেছে, দলের নির্দেশ অমান্য করেছে, দল থেকে দূরে দূরে থেকেছেÑ এমন কাউকে নমিনেশন না দেওয়ার বিষয়েও প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘প্রার্থী বাছাইয়ে কী যোগ্যতা হবেÑ আমরা আলোচনা করেই ঠিক করব। যাকে দিলে সিট নিরাপদ, তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। এটাই নিয়ম। কারণ পার্লামেন্ট পলিটিক্সে একটা সিট জয়লাভের ওপর সরকার গঠন নির্ভর করে। সেখানে মায়া-দয়া, আত্মীয়-স্বজন দেখে নির্বাচন করলে তো হবে না। আমরা দেখবÑ কাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ করবে, কে বেশি জনপ্রিয়, আসন নিশ্চিত হবে। আমি কী পেলাম আর পেলাম না এটা বড় বিষয় নয়Ñ টিম জেতানোই বড় বিষয়।’

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৫৯টি আসন শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে ২২টি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ১৯ আসন ছেড়ে দিয়েছিল। বাকি ১৮টি আসন ছাড় দেওয়া হয়েছিল ২০ দলীয় জোট নেতাদের। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দলগুলোর মধ্য থেকে এবার যাদের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে শুধু তাদেরকেই আসন ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে ঠিক কতটি আসনে ছাড় দেওয়া হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘শরিক দলগুলোর প্রতি বিএনপির সফট দৃষ্টি রয়েছে। প্রতিটি আসনেই আমাদের জনপ্রিয় নেতা রয়েছেন। আসন ছাড়ার আগে তাদের মতামতও নেওয়া হবে।’

শরিক নেতাদেরকে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেখা যাবে শরিক দলের জন্য আসন ছেড়ে দিলাম কিন্তু স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ভালো না। এমন হলে তো শরিক দলের অনেক নেতা স্থানীয় পর্যায়ে ভোটের মাঠে দাঁড়াতে পারবেন না। অতীতে দেখছি ঢাকা থেকে দলেরই কোনো প্রার্থীকে হয়তো মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তিনি এলাকায় যেতে পারেন নাই। এলাকায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তোপের মুখে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়েছে। এজন্যই শরিকদের যারা নির্বাচনে প্রার্থী হবে, তাদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।’

সূত্র জানায়, বিএনপির এবার মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা করবে। যাকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা খুশি হবে, এমন প্রার্থীর হাতেই নির্বাচনী টিকিট দেবে। তবে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এলাকায় জনপ্রিয় ও জনমতকে গুরুত্ব দেবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়ে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবে।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রতিদিনের বাংলাদেশেকে বলেন, ‘আমরা গত ১৭ বছর নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেছি। মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে আন্দোলন করেছি। এ সময়েই আমাদের প্রস্তুতি হয়ে গেছে। আমরা সব সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক, ত্যাগ ও আনুগত্যের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচনে প্রার্থী মূল্যায়ন করা হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নির্বাচন সম্পর্কিত সকল কাজের গতি বাড়িয়েছি। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কয়েক দফা জরিপ হয়েছে। আবারও জরিপ করা হবে। মাঠ পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীদের মতামত প্রাধান্য পাবে। এ ছাড়াও ত্যাগ-তিতিক্ষা, ব্যক্তিগত জীবন, জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতাসহ সার্বিক বিষয়গুলোকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হবে।’

লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা গেলে আগামী বছরের রমজান মাসের আগে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হতে পারে।’ বৈঠকে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের পরই পূর্ণ উদ্যমে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। এ অবস্থায় বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ প্রার্থী বাছাই। সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তফসিল ঘোষণার পর দলীয় প্রার্থীদের দরখাস্তের জন্য আহ্বান জানাবে বিএনপি।

প্রসঙ্গত, বিএনপির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কিংবা অন্য যেকোনো নির্বাচনের জন্য দলের প্রার্থী মনোনয়নে দলের একটি পর্লামেন্টারি বোর্ড থাকবে। জাতীয় স্থায়ী কমিটিই হবে দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিংবা যেকোনো নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব পার্লামেন্টারি বোর্ড পালন করবে এবং এ ব্যাপারে বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।


More News Of This Category
bdit.com.bd