• বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক চেতনায় বেনাপোলকে আধুনিক সীমান্ত নগরী গড়ার প্রত্যয়, জনআস্থার রাজনীতিতে আবু তাহের ভারত এমপি মাজেদ বাবুর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্র ও হলফনামায় জালিয়াতির অভিযোগ হাসিনার সেই ‘৪০০ কোটির পিয়ন’ জাহাঙ্গীর: অনুসন্ধান থেকে ১০০ কোটি টাকা পাচারের মামলা, দুই বছরে কতদূর তদন্ত? পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্ক, কোন পক্ষ কতটা যৌক্তিক? ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপির ‘ছায়াতল’ ও লটারির নাটক: পঞ্চগড়ে চালের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়া হাইব্রিড বিএনপি নেতা একরামুল হক মুন্না যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা

সংগ্রাম, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস পালিত ১/১১-এর বন্দিদশা থেকে জাতীয় নেতৃত্বের রাজনীতিতে—কারামুক্তির দিনকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

নাজমুল হাসান চীফ ইন এডিটর / ২১৯ Time View
Update : শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

সংগ্রাম, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন:মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস পালিত

১/১১-এর বন্দিদশা থেকে জাতীয় নেতৃত্বের রাজনীতিতে—কারামুক্তির দিনকে গণতন্ত্রের সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা

বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা কর্মসূচি, শুভেচ্ছা বার্তা ও স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে ৩ সেপ্টেম্বর শুধু একজন রাজনৈতিক নেতার কারামুক্তির দিন নয়; বরং এটি রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, কারাবন্দিত্ব, নির্যাতন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২০০৭ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দীর্ঘ কারাবাসের সময়ে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপন করা হয়েছে। কারাবন্দিত্বের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বলেও দলটির নেতাকর্মীরা দাবি করে আসছেন।

পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—তৎকালীন পিজি হাসপাতাল থেকে জামিনে মুক্তি পান তারেক রহমান। চিকিৎসার প্রয়োজন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে যান। সেখান থেকেই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়ে আসেন।

৫৫৪ দিনের বন্দিদশা, চিকিৎসা ও প্রবাসজীবন

তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় তাঁর কারাবাস। ১/১১-এর রাজনৈতিক সংকটের সময় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ৫৫৪ দিন বন্দিজীবন কাটাতে হয় তাঁকে—এমন তথ্য বিএনপির দলীয় নথি ও নেতাকর্মীদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

বিএনপির অভিযোগ, কারাবন্দি অবস্থায় রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের নামে তারেক রহমানকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে কারাবাস, মামলা ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপির রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা থেমে থাকেনি। যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি বিএনপির নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন।

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর দেশে ফেরার ঘটনা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে এই প্রত্যাবর্তন ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান এবং রাজনৈতিকভাবে নতুন সম্ভাবনার সূচনা।

কারামুক্তির দিন ঘিরে নেতাকর্মীদের আবেগ

১৯তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিট, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তারেক রহমানের সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের নানা দিক স্মরণ করেন। রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ব্যানার, পোস্টার ও ডিজিটাল গ্রাফিক্সের মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ উপলক্ষে বনানী থানা বিএনপির ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদ, ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইমান হোসেন নুর ইমনের পক্ষ থেকেও একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।

বার্তায় বলা হয়েছে—

“ওরা চেয়েছিল করে দিতে তোমায় নিঃশেষ,
ওরা জানে না তারেক রহমান মানে বাংলাদেশ।”

বার্তার শেষে তাঁকে সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

কারামুক্তি দিবস থেকে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক পথচলা শুধু দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর কারাবাস, চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রা, দীর্ঘ প্রবাসজীবন এবং পরবর্তী সময়ে দেশে প্রত্যাবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়।

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর সক্রিয়তা আরও দৃশ্যমান হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিজয় এবং সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলে দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন।

তাদের ভাষ্য, একসময় যাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার নানা চেষ্টা হয়েছিল বলে তাঁরা মনে করেন, সেই তারেক রহমানই পরবর্তীতে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন।

সংগ্রাম থেকে নেতৃত্ব—বিএনপির রাজনৈতিক বয়ানে তারেক রহমান

বিএনপির রাজনৈতিক বয়ানে তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস একটি প্রতীকী দিন। দলটির নেতাকর্মীরা মনে করেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা, সাংগঠনিক ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে দিনটির গুরুত্ব রয়েছে।

তাদের মতে, ১/১১-এর সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কারাবন্দিত্ব ও পরবর্তী প্রবাসজীবন পেরিয়ে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ—এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রার প্রতিফলন।

সামনে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়

১৯তম কারামুক্তি দিবসকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এখন ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে। দলটির সমর্থকদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

কারামুক্তির ১৯ বছর পর রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান এখন দেশের রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে। ফলে ৩ সেপ্টেম্বরের এই দিনটি বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে শুধু অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে উঠেছে।

কারাবন্দি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব—তারেক রহমানের রাজনৈতিক যাত্রা

২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার

দীর্ঘ ৫৫৪ দিনের কারাবাস

কারাবন্দি অবস্থায় শারীরিক অসুস্থতা

২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যাত্রা

দীর্ঘ প্রবাসজীবনে দলীয় নেতৃত্ব

২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে প্রত্যাবর্তন

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর সরকার গঠন

বর্তমানে জাতীয় নেতৃত্বে দায়িত্ব পালন

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে এই দীর্ঘ পথচলা রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রত্যাবর্তন ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার প্রতিচ্ছবি।

দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | বিশেষ প্রতিবেদন


More News Of This Category
bdit.com.bd