• মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশের টেকসই উন্নয়নে সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, আইন মেনে তালাকের পর সাবেক স্ত্রীর হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা: বৃদ্ধ মায়ের জীবন শঙ্কায়, আতঙ্কে পুরো পরিবার বন্দর এলাকা, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সীমান্তপথে যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে প্রশংসায় ভাসছেন বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই (নিঃ) মো. রাশেদুজ্জামান ঠাকুরগাঁওয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২২০ ইয়াবা, ৯ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৩২ হাজার টাকা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ এফবিআই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে বিএমএসএফ কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, সহকর্মীদের দোয়া ও সহযোগিতার আহ্বান মাছ ধরতে গিয়ে জেলের জালে মিলল থানা থেকে লুট হওয়া শর্টগান বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্টে ‘স্পট ট্যাক্স’ বন্ধ, লাগেজ হয়রানি ও উন্নয়ন প্রশ্নে বাড়ছে জনঅসন্তোষ: রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান: বড়আঁচড়া সড়কের অস্থায়ী সংস্কারে উদ্যোগ, এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি বেনাপোলের গর্ব মারিয়া আফরিন তিষু: ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব, গণমাধ্যমে আত্মবিশ্বাসী উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

শেখ হাসিনার ‘ভাঙ্গা চুক্তি’ ও ড. ইউনুসের ‘নীরব সংস্কারহীনতা’তে পুড়ল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির

Reporter Name / ২২৯ Time View
Update : সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫

 

শেখ হাসিনার ‘ভাঙ্গা চুক্তি’ ও ড. ইউনুসের ‘নীরব সংস্কারহীনতা’তে পুড়ল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির

নাজমুল হাসান সিনিয়র এডিটর

২১ জুলাই ২০২৫

আজকের দিনটি কেবল একটি বিমান দুর্ঘটনার দিন নয়। এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা, সামরিক দুর্নীতি ও নীতিহীন শাসনের নগ্ন প্রকাশ।

আজ ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের সলো ফ্লাইট ট্রেনিং—একজন ফাইটার জেট পাইলটের প্রশিক্ষণের সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ ধাপ। এই ধাপে একজন পাইলটকে সম্পূর্ণ একা, কোনো কো-পাইলট বা ইনস্ট্রাক্টর ছাড়াই বিমান পরিচালনা করতে হয়।

তৌকির তা-ই করছিলেন—তবে এই ট্রেনিং শেষ হয়েছে জীবনের বিনিময়ে।

কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে?

তৌকির তাঁর এফ-৭ বিমান নিয়ে টেক অফ করেন কুর্মিটোলা পুরাতন বিমানঘাঁটি থেকে। এরপর দিয়াবাড়ি, বাড্ডা, হাতিরঝিল ও রামপুরা—এই শহরের আকাশজুড়ে উড়তে থাকেন। সলো ফ্লাইট ট্রেনিং সাধারণত আর্বান এরিয়াতেই হয়—কারণ এটি বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রস্তুতির অংশ।

কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্যা দেখা দেয়।

তিনি কন্ট্রোল রুমে জানান:

> “বিমান নিচে নামছে, ভাসছে না…”

তৎক্ষণাৎ নির্দেশ আসে: “ইজেক্ট করো!”
কিন্তু তৌকির করেননি। কারণ নিচে ছিল স্কুল, শিশুরা, মানুষ।

তিনি বিমানটিকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। সর্বোচ্চ স্পিড তুলে ঘাঁটির দিকে ফিরে যেতে থাকেন।
কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এর এক মিনিটের মধ্যেই বিমান বিধ্বস্ত হয় উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের পাশেই।

এই দুর্ঘটনা যান্ত্রিক ব্যর্থতা নয়—এটি ছিল রাষ্ট্রীয় অপরাধ

এই মৃত্যু ছিল একটি লুকানো বিষবীজের ফল—যার বপন করেছিলেন শেখ হাসিনা, আর লালনপালন করছেন ড. ইউনুস সরকার।

মূল অপরাধী: শেখ হাসিনা – ‘ভাঙ্গা’ বিমান কেনার চুক্তির মূলে তিনি

২০১১–২০২৩ পর্যন্ত সময়ে শেখ হাসিনার সরকার চীনের সঙ্গে সামরিক চুক্তির মাধ্যমে বহু পুরনো ও অনিরাপদ প্রশিক্ষণ বিমান আমদানি করে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিমান ছিল ব্যবহৃত, মানহীন এবং ঝুঁকিপূর্ণ—যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেরও নিচে।

এই চুক্তিগুলো ছিল কমিশন নির্ভর দুর্নীতিপরায়ণ সিন্ডিকেট পরিচালিত, যার নেতৃত্বে ছিলেন হাসিনার ঘনিষ্ঠরা।

এইসব ‘মৃত্যুর যন্ত্র’ এখনও পাইলটদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে।

সহযোগী দায়ী: ড. ইউনুস সরকার – সংস্কারের নামে নীরবতা

বর্তমান অস্থায়ী সরকার জানত এই বিমানগুলো বিপজ্জনক।

কিন্তু তারা একটি বিমান বাতিল করেনি, কোনও সেফটি স্ট্যান্ডার্ড আপডেট করেনি, এবং কোনো মৌলিক সংস্কার নেয়নি।

বরং, আগের ব্যর্থতাগুলোকে বৈধতা দিয়েছে চুপচাপ সহমতে।

ড. ইউনুস সরকার হয়তো এই সিস্টেম তৈরি করেননি, কিন্তু তিনি সেটিকে প্রশ্নহীনভাবে বহাল রেখেছেন—এটাই তার অপরাধ।

তাহলে দায়ভার কার?

প্রধান অপরাধী: শেখ হাসিনা — এই ‘ভাঙ্গা’ বিমানগুলোর আমদানির নেপথ্যে তিনিই প্রধান কারিগর।

সহযোগী দায়ী: ড. ইউনুস সরকার — যিনি সংস্কার না করে সেই বিপজ্জনক কাঠামো চালু রেখেছেন।

তৌকির শুধু পাইলট ছিলেন না—তিনি ছিলেন সাহসের প্রতীক, বিবেকের কণ্ঠ

তৌকির তাঁর পেশাগত দায়িত্বের ঊর্ধ্বে উঠে বলেছিলেন:

> “আমি জীবন দিতে রাজি, কিন্তু কারো জীবন নিতে রাজি নই।”

একটা বোতাম তিনি চাপেননি—প্যারাসুট ইজেকশনের।
কারণ তাঁর বিবেক বলেছিল, বাঁচো, কিন্তু একা নয়।

রাষ্ট্র এবার কী করবে?

আর কত প্রাণ গেলে আমরা পুরনো বিমানগুলো গ্রাউন্ড করব?

আর কত মায়ের কান্না লাগবে, যাতে দুর্নীতিবাজ চুক্তির তদন্ত হবে?

আর কত তরুণের মৃত্যু দেখলে আমরা বলব—”এটা দুর্ঘটনা নয়, এটা অপরাধ”?

তৌকির আজ নেই। কিন্তু প্রশ্ন রেখে গেছেন আমাদের জন্য— “আমার মৃত্যু কি শুধুই খবর হবে, না বদলের দাবি?”

এই মৃত্যু শুধুই দুঃখজনক নয়—এটা সতর্কবার্তা। এবার বোতাম চাপতে হবে আমাদের—প্রশ্নের বোতাম, বিচারের বোতাম।

শেখ হাসিনার ভাঙ্গা বিমান, ইউনুসের চুপচাপ সংস্কার: আর মাঝখানে পুড়ে মরল স্কুলপড়ুয়া শিশুরা

উত্তরার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠেছিল একটা বিকট শব্দ। মুহূর্তের মধ্যে সব নিস্তব্ধ। ধোঁয়ায় ভরে গেল আকাশ। নিচে পড়ে আছে পুড়ে যাওয়া একটি বিমান… আর তার ধ্বংসাবশেষে মিশে গেছে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের শরীর, আর কয়েকটি শিশুর পোড়া ভবিষ্যৎ।

তিনি হয়তো নিজেকে বাঁচাতে পারতেন—তবে বাঁচানোটা বেছে নেননি। কারণ নিচে ছিল স্কুলে পড়া শিশুরা। তাঁর হাতে ছিল প্যারাসুট খুলে লাফ দেওয়ার বোতাম।
তবে তিনি চাপেন আরেকটি বোতাম—নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে শত মানুষের জীবন বাঁচানোর।

সলো ফ্লাইট: একটি আত্মত্যাগের ফ্লাইট

সেইদিন ছিল ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকিরের Solo Flight Training—পাইলট ট্রেনিংয়ের সর্বোচ্চ ধাপ।
এই ট্রেনিংয়ে একজন পাইলটকে একাই ফাইটার জেট উড়াতে হয়, কোন কো-পাইলট বা ইনস্ট্রাক্টর ছাড়াই।

তৌকির এফ-৭ বিমান নিয়ে কুর্মিটোলা পুরনো বেস থেকে টেক-অফ করেন এবং উত্তরা, দিয়াবাড়ি, হাতিরঝিল, বাড্ডা’র আকাশে ট্রেনিং চালান। হঠাৎ তিনি টের পান—বিমান নিচের দিকে নামছে, ভেসে থাকছে না।

তিনি কন্ট্রোল রুমে ইজেকশন না করে নিজেই বারবার জানান: “বাচাতে চাই।”
সর্বোচ্চ গতি নিয়ে বেসের দিকে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু এক পর্যায়ে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
এর ঠিক ১-দেড় মিনিট পর বিমান বিধ্বস্ত হয় উত্তরা মাইলস্টোন স্কুলের পাশেই।

স্কুলের শিশুরা পুড়ল, রাজনীতি খেলল ‘চোখে পড়েনি’ নাটক
যারা বই নিয়ে স্কুলে গিয়েছিল, তারা আগুনে পুড়ে মরল

শিশুরা এসেছিল ক্লাসে। তারা কোনো রাজনীতি করেনি। তারা কোনো ক্ষমতার কাছে মাথা নত করেনি।
তাদের দোষ একটাই—তারা শেখ হাসিনার আমলে কেনা “ভাঙ্গা” বিমানের নিচে ছিল।

> তাদের মা বলছেন:
“আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়েছিলাম, কফিনে ফেরাতে নয়।”

তাহলে এই রক্তের দায় নেবে কে?

শেখ হাসিনা: এই ‘মৃত্যু বিমান’ আমদানির মূল কান্ডারি

চীনের সঙ্গে দুর্নীতিপূর্ণ সামরিক চুক্তির মাধ্যমে পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ এফ-৭ বিমান বাংলাদেশে আনা হয়।

কমিশন বাণিজ্যে মত্ত হয়ে জীবনের মান নয়, লুটের অঙ্ক দেখেছেন।

আজ সেই বিমানেই পুড়ছে শিশুরা, মারা যাচ্ছে পাইলটরা।

ড. ইউনুস সরকার: নীরব ও নির্লিপ্ত প্রশাসক

জানতেন বিমান ঝুঁকিপূর্ণ।

জানতেন শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সিস্টেম ব্যর্থ।

তবু কোনো সংস্কার আনেননি।

চুপ থেকেছেন, যেন অপরাধে মৌন সম্মতি দিয়েছেন।

জনগণের প্রশ্ন:

“শেখ হাসিনার কেনা বিমান, ইউনুসের চুপচাপ অনুমতি—এতে যদি আমাদের বাচ্চারা আগুনে পুড়ে মরে, তাহলে এই রাষ্ট্র কি শুধুই শোক বার্তা দেবে? বিচার নয়?”এখন আর শোক নয়, এবার জবাব চাই

শেখ হাসিনার যুদ্ধাপরাধসম উপযোগী বিচার চাই।

ড. ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা ও অবহেলার তদন্ত চাই।

নিহত শিশুদের পরিবারকে আজীবন ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ভবিষ্যতে এধরনের পুরনো বিমান সম্পূর্ণভাবে বাতিল করতে হবে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির বললেন না কিছু, কিন্তু রেখে গেলেন একটা প্রশ্ন:

আমি তো আমার বোতাম চাপলাম… এখন তোমরা চাপবে তো সত্যের বোতাম?


More News Of This Category
bdit.com.bd