যশোর-১ (শার্শা) আসনে স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী ও সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে শার্শা মিনি স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ের আগে সমাবেশ ও জনসংযোগ করার অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী এ অভিযোগ করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন এই প্রার্থী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে শার্শা মিনি স্টেডিয়ামে মফিকুল হাসান তৃপ্তি বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে সমাবেশ করেন। সেখানে উচ্চশব্দে মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী বক্তব্য এবং স্লোগান দেওয়া হয়। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দ এবং ভোট গ্রহণের অন্তত তিন সপ্তাহ (২১ দিন) আগে কোনো প্রকার প্রকাশ্য সভা, মিছিল বা প্রচারণা চালানোর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিধিলঙ্ঘনে শাস্তির বিধান
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি অপরাধ। এই লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর বিরুদ্ধে নিম্নোক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে:
কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড: বিধিমালার বিধি ১৮ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস সশ্রম কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
প্রার্থিতা বাতিল: গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO)-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রার্থী গুরুতরভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন এবং নির্বাচন কমিশন মনে করে যে এর ফলে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছে, তবে কমিশন ওই প্রার্থীর প্রার্থিতা সরাসরি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে।
দলীয় জরিমানা: কোনো রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে এই জরিমানা ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশাসনের বক্তব্য
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নির্বাচনী তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।”
উল্লেখ্য, প্রতীক বরাদ্দের আগে এ ধরনের শোডাউন ও সমাবেশকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করা প্রয়োজন।