প্রকাশিত: ৮ জুলাই ২০২৫
নাজমুল হাসান
শাপলা ফুল শুধু মার্কা নয়—এটি আমাদের আত্মার প্রতীক
“জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীককে রাজনৈতিক করণ করার যে প্রয়াস, তা ইতিহাসকে অবমাননা করার নামান্তর।”
শাপলা ফুল—একটি সাধারণ জলজ উদ্ভিদ হলেও, বাঙালির হৃদয়ে এর অবস্থান অসাধারণ। বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত শাপলা ফুল শুধুমাত্র একটি ফুল নয়, এটি আমাদের জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও স্বপ্নের প্রতীক। অথচ আজ এই শাপলা ফুলকে ব্যবহার করা হচ্ছে দলীয় স্বার্থে, বিভাজনের প্রতীক হিসেবে, যা বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক চেতনার বিরুদ্ধে এক নির্মম আঘাত।
জাতীয় প্রতীকের ইতিহাস: শাপলার মর্যাদা
বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর দেশের জাতীয় প্রতীক নির্ধারণের সময়ে শাপলা ফুলকে বেছে নেওয়া হয়েছিল এর সরলতা, সৌন্দর্য ও গণমানুষের সাথে আত্মিক সংযোগের জন্য।
এটি বাংলার নদী-নালা, বিল-হাওরের প্রতিচ্ছবি।
এটি দেশের সাধারণ মানুষের রূপক: মাথা উঁচু করে জলে ভেসে থাকা সংগ্রামী সত্তা।
বাংলাদেশের সরকারি নথিপত্র, টাকায়, মুদ্রায় এবং জাতীয় প্রতীক-সংবলিত স্থাপনায় এই শাপলা ফুলের উপস্থিতি রয়েছে সম্মানের সাথে।
—
⚠️ রাজনীতিকরণ: শাপলার নামে বিভাজনের ফাঁদ
আজ আমরা প্রত্যক্ষ করছি—একটি জাতীয় ঐতিহ্যকে কুক্ষিগত করার অপচেষ্টা। শাপলা ফুলকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী প্রতীক বানিয়ে, তাকে বিতর্কিত, এমনকি ঘৃণিত করে তোলার আয়োজন চলছে।
🔻 ফলাফল কী?
সাধারণ মানুষ, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জাতীয় প্রতীকের প্রতি ঘৃণা জন্ম নিচ্ছে।
স্কুল-কলেজে জাতীয় প্রতীকের শিক্ষা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।
আন্তর্জাতিক মহলে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বিভক্তির প্রতীক হয়ে উঠছে।
—
🗣️ জনগণের অভিমত: “শাপলা তো আমাদের সবার”
চট্টগ্রামের এক শিক্ষার্থী বলে, “শাপলা তো স্কুলে পড়েছি, বইয়ে দেখেছি, সেটা এখন একটা দলের মার্কা—এটা মানতে কষ্ট হয়।”
একজন বয়স্ক কৃষক বলেন, “পুকুরে যেই শাপলা ফুটতো, আমরা তা দিয়েই সারা জীবনের গল্প বলতাম। এখন এটা নাকি রাজনীতির জিনিস!”
এমন শত শত কণ্ঠ বলছে—শাপলা ফুল দলীয় হতে পারে না। এটা গোটা জাতির।
—
⚖️ রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বহীনতা
প্রশ্ন ওঠে—কেন নির্বাচন কমিশন জাতীয় প্রতীকের সাথে মিল থাকা প্রতীক বরাদ্দ দিল?
কীভাবে একটি জাতীয় ঐতিহ্য রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে নিবন্ধিত হয়?
কোথায় গেলো সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ?
জাতীয় প্রতীককে বিতর্কিত করে দেওয়া হলো জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তে, যার দায় কেউ নিচ্ছে না।
—
🧭 সমাধান ও আহ্বান: ঐক্যের প্রতীকের পবিত্রতা রক্ষা করুন
> “একটি প্রতীক, যদি বিভেদ ডেকে আনে—তবে সেটি আর প্রতীক নয়, সেটি অস্ত্র।”
জাতীয় ঐতিহ্যকে দলীয় বর্মে রূপান্তর মানে ইতিহাসের সাথে প্রতারণা। রাষ্ট্র, নির্বাচন কমিশন, এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে অনতিবিলম্বে শাপলা ফুলকে দলীয় প্রতীক হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
এই ফুল শুধু একটি দলের নয়—এটি ১৮ কোটি বাঙালির হৃদয়।
—
✊ শেষকথা: শাপলা ফিরে পাক তার সম্মান
শাপলা ফুল আমাদের স্বকীয়তার, ঐতিহ্যের এবং সম্মিলিত চেতনার প্রতীক। একে দলীয় রাজনীতির বিষাক্ত ছায়া থেকে মুক্ত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
যদি আমরা শাপলাকে রক্ষা করতে না পারি, তবে আমরা আমাদের ইতিহাসকেই অপমান করবো।
—
📌 Daily Prothom Bangladesh-এর পক্ষ থেকে আমরা এই বিষয়ে একটি নাগরিক আবেদন জানাচ্ছি:
জাতীয় প্রতীক শাপলা ফুলকে দলীয় রাজনীতির হাত থেকে মুক্ত করুন।
আপনার মতামত দিন, অংশ নিন আমাদের ক্যাম্পেইনে:
#শাপলা_জাতীয়_প্রতীক #দলীয়_করো_না #SaveOurSymbol
—
🖋️ নাজমুল হাসান
বিশ্লেষক ও সম্পাদক | Daily Prothom Bangladesh