রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল আজিজ সরকারের জানাজা সম্পন্ন
জাতীয় শহিদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি, ছিল আবেগঘন পরিবেশ
মোঃ শাহজাহান বাশার,স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ও মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মানিত সংগঠক, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল আজিজ সরকার-এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা আজ শনিবার (২১ জুন ২০২৫) দুপুর ২টায় জাতীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার পূর্বে রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী গার্ড অফ অনার প্রদান করা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে এবং জাতীয় সংগীত বাজিয়ে মরহুমের প্রতি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। গার্ড অফ অনার প্রদান উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর একটি চৌকস দল উপস্থিত ছিল।
জানাজায় বাংলাদেশ ট্যাক্স বার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীবৃন্দ এবং মরহুমের সহকর্মী, শিক্ষানবিশ, সিনিয়র ব্যারিস্টারসহ আইন অঙ্গনের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির সম্মানিত চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা রুহুল আমিন, যুগ্ম মহাসচিব আসলাম হোসাইন ও সোহেল সামাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল বারী, দপ্তর সম্পাদক ইব্রাহিম মিয়া-সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ, অগণিত দলীয় কর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উপস্থিত জনতা মরহুমের রাজনৈতিক জীবন, সততা, আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জানাজা শেষে বিএসপি চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি বলেন:
“এডভোকেট আব্দুল আজিজ সরকার ছিলেন আমাদের দলের রত্ন। তিনি ছিলেন নীতির প্রতীক, একজন নির্ভীক রাজনীতিক এবং একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক। আমরা তাঁকে হারিয়ে চিরশূন্যতায় পড়েছি।”
জানাজার পুরো সময়জুড়ে ছিল এক আবেগে আপ্লুত পরিবেশ। সর্বস্তরের মানুষ মরহুমের প্রতি ফুল ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে রাজধানী ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেকে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে হাজির হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুল আজিজ সরকার ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল আদর্শের নাম। সততা, মানবিকতা ও প্রগতিশীল চিন্তার প্রতীক এই রাজনীতিক তাঁর জীবদ্দশায় অসংখ্য তরুণকে ন্যায়ের পথে চলার অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।