রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে ভয়ঙ্কর অনিয়ম ও নৈতিক অবক্ষয়: ভুক্তভোগীদের মুখ খুলছে
ডেইলি বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
২৯জুলাই ২০২৫
রাজশাহী, বাংলাদেশ – দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক)-এ চরম অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের চিত্র উঠে এসেছে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায়। চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের যে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা শুধু প্রশাসনিক নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও চরম লঙ্ঘন।
ঘুষ ছাড়া চিকিৎসা হয় না?
ভুক্তভোগী এক ব্যক্তির ভাষায়, “রাজশাহীতে অনেক কিছু নিতে হচ্ছে। সাধারণ চিকিৎসা বা বেড পেতে গেলেও ‘নিজেদের মতো কিছু’ দিতে হয়। ঘুষ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা মেলে না।”
এই চিত্রটি হাসপাতালের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা দালাল চক্র এবং কিছু অসাধু স্টাফদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
– নারী স্বজনদের হয়রানি: টিচার নিজেই ‘কোর্স’ করছে?
অত্যন্ত উদ্বেগজনক একটি অভিযোগে বলা হয়েছে, একজন মেডিকেল শিক্ষক (!) নিজে তার ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্যকে, সম্ভবত মা বা অন্য নারী অভিভাবককে “নিতে চাওয়া”-র মতো অনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করেছেন।
ভুক্তভোগী বলেন: “মনে করেন আমার সামনে একজনকে কোর্স করছে যে টিচার তার মাকে নিতে চায়।”
এই ধরনের ঘটনাকে শুধু “অসদাচরণ” বললে কম বলা হয়—এটি সরাসরি পেশাগত নৈতিকতা লঙ্ঘন ও যৌন হয়রানির শামিল।
রোগীর গায়ে গ্লাস, কিন্তু ব্যবহারে সন্ত্রাস?
আরেকটি অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতায়, একজন রোগী (সম্ভবত মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত বা ভিন্ন আচরণবিশিষ্ট) যিনি গ্লাস পড়তেন, তার আচরণ ছিল অত্যন্ত রূঢ়।
ভুক্তভোগী বলেন: “সে আমার সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেছে, অথচ তার কোনো রোগের লক্ষণ দেখিনি।”
এখানে প্রশ্ন উঠে, হাসপাতালের রোগী বাছাই ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা দুর্বল যে, যে কেউ এসে অন্যদের হয়রানি করতে পারে?
রাজশাহী মেডিকেল: মানবিক না, বাণিজ্যিক?
প্রতিদিন শত শত সাধারণ মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু তারা হয়তো জানে না, এই হাসপাতালটিই এখন কোনো কোনো চক্রের কাছে লাভজনক ব্যবসার ময়দান।
প্রতিবাদ করলে বা প্রশ্ন তুললে রোগী-স্বজন হয়রানির শিকার হয়—নেই কোনো জবাবদিহিতা, নেই মানবিক সহানুভূতি।
দাবি ও সুপারিশ:
১. দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালের ভেতরের দুর্নীতি ও হয়রানি চক্রকে চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনা হোক।
২. ভুক্তভোগীদের জন্য হটলাইন ও নিরাপদ অভিযোগ ব্যবস্থা চালু করা হোক।
৩. যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ও ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করা হোক চিকিৎসক ও কর্মীদের জন্য।
৪. সংবাদমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও সুশীল মহলকে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।
—
প্রতিবেদক:
স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষক / নাগরিক সাংবাদিক
তারিখ: ২৮ জুলাই ২০২৫
স্থান: রাজশাহী