দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক রিপোর্ট | শার্শা উপজেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিদিনের মতো এখনো চলছে আলোচনা, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রত্যাশা। রাজনৈতিক কর্মীরা নিজেদের অবস্থান ও আদর্শের প্রতি অনুগত থেকেও ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন— আর সেটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তবে এই মতবিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, বরং সম্মানের মাধ্যমে একটি ঐক্যবদ্ধ রাজনীতি গড়ে তোলা উচিত— এমন মত প্রকাশ করেছেন শার্শা উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাইমিনুল ইসলাম সাগর।
তিনি বলেন, “রাজনীতিতে ব্যক্তিগত পছন্দ বা চয়েস থাকা একেবারেই স্বাভাবিক বিষয়। কেউ হয়তো কোনো নেতৃত্বকে পছন্দ করেন, আবার কেউ ভিন্ন কাউকে সমর্থন করেন— এটাই রাজনৈতিক বহুমাত্রিকতা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, সবাই মনোনয়ন প্রত্যাশী, তাই প্রত্যেককে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা মানেই শত্রুতা নয়; বরং এটি একটি গণতান্ত্রিক চর্চা, যা আমাদের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।”
সাগর আরও বলেন, “একটি খেলায় যেমন দুটি পক্ষ থাকে— কেউ জেতে, কেউ হারে; তেমনি রাজনীতিতেও প্রতিযোগিতা থাকতেই পারে। কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য, একই আদর্শের অনুসারী। যে হেরেছে সেও আমাদের ভাই, যে জিতেছে সেও আমাদের ভাই। কারণ আমরা সবাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী, আমরা সবাই ধানের শীষের সৈনিক।”
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “কথা ছিল ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখছি সেই পুরনো রাজনীতিরই রঙিন সংস্করণ। আজ যারা জনসেবার নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতার মঞ্চে উঠে আসছে, তারা নিজেরাই স্বার্থে অন্ধ হয়ে পড়ছে। জনগণের কল্যাণের কথা তারা ভুলে গেছে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, জনগণ কখনো চিরদিন নীরব থাকে না। যখনই সময় আসে, তখনই তারা জেগে ওঠে এবং জবাব দাবি করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ছাত্ররাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা, আদর্শিক প্রশিক্ষণ এবং দেশের স্বার্থে তরুণদের প্রস্তুত করা। আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ি, তাহলে সেই আদর্শ হারিয়ে যাবে। ছাত্রদলের প্রত্যেক সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জনগণের পক্ষে, সত্যের পক্ষে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের পক্ষে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকুক, কিন্তু মন যেন বিভক্ত না হয়।”
মোহাইমিনুল ইসলাম সাগর বিশ্বাস করেন, সত্যিকারের নেতৃত্ব সেই ব্যক্তি দিতে পারেন, যিনি দল ও সংগঠনের স্বার্থকে নিজের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। তিনি আহ্বান জানান— “সবাই নিজের অবস্থান থেকে ইতিবাচক রাজনীতি করুন, সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, এবং জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করুন। কারণ রাজনীতি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়— এটি জনগণের সেবা ও আত্মত্যাগের ক্ষেত্র।”
শেষে তিনি বলেন, “আমরা ছাত্রদল পরিবার— আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো বাধাই আমাদের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি কর্মী যদি সততা, আদর্শ ও মানবতার পথে অটল থাকে, তাহলে জনগণই আমাদের শক্তি হবে, আর সত্যিকারের গণতন্ত্রই প্রতিষ্ঠিত হবে।”