রাউজানে যুবককে পিটিয়ে এলাকাছাড়া: নেপথ্যে ‘দুই গোলাপ’ সন্দেহ ও চাঁদা
কদলপুরে ৫ লাখ টাকা না পেয়ে প্রাণনাশের হুমকি, পুলিশের তদন্ত শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাউজান | ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে একটি পরিবার। ফেসবুকের বিতর্কিত ‘দুই গোলাপ’ আইডি পরিচালনার সন্দেহে এক যুবককে বর্বরোচিত কায়দায় পিটিয়ে এলাকাছাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই যুবক হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফেরার পর ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে প্রাণভয়ে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সন্দেহের বশে বর্বরোচিত হামলা
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ কদলপুর এলাকায় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে একদল যুবক ভুক্তভোগীকে আটক করে। তাদের অভিযোগ, ওই যুবক ‘দুই গোলাপ’ নামক একটি ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন বিতর্কিত পোস্ট দিচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো প্রমাণ ছাড়াই যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
হাসপাতাল থেকে ফিরে চাঁদার খড়্গ
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর অভিযুক্তরা যুবকের পথরোধ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাকে সপরিবারে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “হামলাকারীরা কদলপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাদের নামে ডাকাতি ও খুনের মামলা আছে। তারা এখন এই যুবককে পুঁজি করে টাকা আদায়ের ধান্দা করছে।”
ইনসাইড বক্স: আতঙ্কে পরিবার ভুক্তভোগী যুবকের বর্তমান অবস্থান জানেন না খোদ তার বাবা-মাও। তারা জানান, অভিযুক্তরা প্রতিনিয়ত বাড়িতে এসে যুবকের খোঁজ করছে। চাঁদা না দিলে বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটছে তাদের।
এলাকাবাসীর সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্যমতে, এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল কদলপুর এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত একদল সন্ত্রাসী। যাদের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় ডাকাতি ও হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা হলো:
১. রুবেল (গরু চোর হিসেবে পরিচিত) ২. আলম (পিতা: মনেক্যা) ৩. মামুন (ওরফে বাদাইম্মে মামুন) ৪. মন্নান ৫. রাজু ৬. আসাদ ৭. বাচা ৮. কানা ইরফান

প্রশাসনের বক্তব্য
রাউজান থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, কদলপুরের এই ঘটনাটি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একনজরে ঘটনার দিনলিপি
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: সন্দেহবশত যুবককে ধরে নৃসংশ হামলা।
জানুয়ারি ২০২৬: ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম।
ফেব্রুয়ারি ২০২৬: নিরাপত্তার স্বার্থে যুবকের আত্মগোপন এবং পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম শুরু।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে রাউজানের সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হতে পারে।