অনলাইন ডেস্ক রিপোর্ট যশোর :
২০২২ সালের ২৮শে আগস্ট যশোরে ঘটে যায় এক ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল ছিল যশোর শহরের দড়াটানার ব্রিজ এলাকা, যেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় নৃশংসভাবে তার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং পরবর্তীতে তার বাসভবনে হামলা চালায়।

চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো—এ হামলার নেতৃত্ব দেন যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিপুলের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীরা প্রথমে দড়াটানা ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে অমিতের গাড়ির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি অমিতকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টাও করা হয়। পরে হামলাকারীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে শহরের চাঁচড়ায় অবস্থিত তার বাসভবনে আবারো আক্রমণ চালায়।

ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বরং হামলাকারীদের পেছনে থেকে নিরাপত্তা দিয়ে তাদের তাণ্ডব চালাতে সহায়তা করার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিনের ঘটনার প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত একাধিক গণমাধ্যমকে জানান, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। পুলিশ সেখানে থাকলেও তারা হামলাকারীদের থামানোর পরিবর্তে চোখ বন্ধ করে সহযোগিতা করেছে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই হামলার পর যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপি নেতাকর্মীরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। তবে আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাবশালী মহলের কারণে হামলাকারীরা তখনও বহাল তবিয়তে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যশোরে ২০২২ সালের এ ভয়াবহ ঘটনা শুধু একজন নেতার ওপর আক্রমণ নয়, বরং গোটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা। তারা মনে করেন, প্রশাসনের সরাসরি আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এ ধরনের হামলা সম্ভব নয়।
তিন বছর পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার বিচার না হওয়ায় আজও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। ফলে যশোরবাসীর মনে প্রশ্ন—গণতন্ত্রের নামে এ কেমন নৃশংস রাজনীতি চলছে দেশে?