০১ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার, রাত ৮:৩০ মিনিট
জনতার কণ্ঠস্বর ডেস্ক
দৈনিক বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ
বারোপোতায় জমি দখল ও হামলার অভিযোগ: ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদেরের মামাকে কুপিয়ে জখম, অভিযুক্ত বিএনপি’র কথিত নেতা তবিবুর রহমান তবি
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভয়াবহ জমি দখল ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোঃ মুনতাজ মড়লের ছেলে, বিএনপি’র কথিত নেতা মোঃ তবিবুর রহমান তবি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।
ঘটনার বিবরণ
ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদেরের খাস জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে এবং সেখানে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের প্রতিবাদ করলে তার মামা তরিকুল ইসলামকে প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
উপজেলা ছাত্রদল নেতার বক্তব্য
ছাত্রদল নেতা আব্দুল কাদের বলেন,
আমার খাস জমি জোরপূর্বক দখল করেছে তবি। আমি প্রতিবাদ করলে আমার মামাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করেছে। এটি কেবল আমার বিরুদ্ধে নয়, গোটা সংগঠনকে হেয় করার চেষ্টাও।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয়রা বলছেন, বারোপোতা গ্রামের এই কথিত বিএনপির নেতা তবিবুর রহমান তবি মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী চেয়ারম্যান গফফারের ডানহাত হিসেবে দীর্ঘদিন এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তিনি বিএনপি’র পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায়, জমি দখল এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। অতীতে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, হত্যার প্রচেষ্টা এবং বোমাবাজি সংক্রান্ত অভিযোগও ছিল। আওয়ামী লীগের শাসনামলের সময় এসব অনিয়ম ও সহিংসতা সীমাহীন ছিল।
রাজনৈতিক ও আইনগত বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক প্রভাব: বিএনপি’র কথিত নেতা তবিবুর রহমান তবির কর্মকাণ্ড দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে। দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতি-বিপরীত কর্মকাণ্ড স্থানীয় জনমনে আস্থা কমাচ্ছে।
আইনগত ব্যবস্থা: পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপের প্রয়োজন: রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই ধরনের নেতাদের দ্রুত শাস্তি না হলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা হারাবে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ
এ ধরনের সহিংসতা ও দখলবাজি স্থানীয় জনগণ ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক পরিবেশে অনিরাপত্তা তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে।
অতীত অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
তবিবুর রহমান তবির বিরুদ্ধে পূর্বেও জমি দখল, চাঁদাবাজি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং হত্যার প্রচেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ শাসনামলের সময় স্থানীয় অপকর্ম ও রাজনৈতিক সহিংসতা সীমাহীন ছিল। বিএনপি’র হাই কমান্ড বারবার সতর্কতা জারি করেছে, কিন্তু তবি প্রভাব খাটিয়ে পদক্ষেপ থেকে বেঁচে গেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার অপরিহার্য।
ভবিষ্যতের সতর্কবার্তা
স্থানীয় সচেতন মহল ও ছাত্রদল কর্মীরা জানিয়েছেন, যদি এই ধরনের দখলবাজি, হুমকি এবং সহিংসতার ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষ দলের প্রতি আস্থা হারাবে। তবির মতো নেতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
—