মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে শীষ নাগের দুর্নীতি—দোষ প্রমাণিত হলে কঠোরতম শাস্তির দাবি
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের আমলে সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুউজ্জামান আনিস ওরফে শীষ নাগের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নয় ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মুখে-মুখে তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগ অনুযায়ী, শীষ নাগের সময়ে চাকরি বানিজ্য, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান, এবং আর্থিক লেনদেনে গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—ঘুষ বাণিজ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন, হয়রানি, জুলুম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, অবৈধ বালু-মহল নিয়ন্ত্রণ, মাদক ব্যবসায় সম্পৃক্ততা, ক্যাডার বাহিনী পরিচালনা, পদ-পদবি ও মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টরা কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন সংস্থা ও গোয়েন্দা বিভাগের তালিকাভুক্ত তদন্তাধীন একটি সিন্ডিকেটে রয়েছে—
সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুউজ্জামান আনিস (শীষ নাগ)
মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি মহিউদ্দিনের ছোট ভাই
সাবেক এমপি মৃণাল কান্তি দাসের স্ত্রী নিলীমা দাস
সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া (আফসুর)
মিরকাদিম পৌরসভার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র শহিদুল ইসলাম শাহিন
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দুর্নীতি দমন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও ফৌজদারি আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি—দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, অবৈধ সম্পদ জব্দ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে আজীবন বঞ্চিতকরণ পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন,
> “অপারেশন ডেভিল হান্টে রাঘব বোয়াল-চুনোপুঁটি কেউই ছাড় পাবে না। যারা অপরাধী, তারাই ধরা পড়বে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও এর বাইরে নয়। দেশকে অপরাধমুক্ত না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে।”