মনিরামপুরে পারিবারিক বিরোধে বড় ভাই খুন, নিহত ব্যক্তি ছিলেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি
হাফিজুর রহমান (যশোর প্রতিনিধি)
মনিরামপুর, যশোর | ১৪ জুলাই ২০২৫
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা বিরোধকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের পরিবারের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন স্থানীয় বিএনপির এক নেতা। নিহত আব্দুল মান্নান (৫৫) ডুমুরখালি গ্রামের বাসিন্দা এবং হরিহরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১২ জুলাই) বিকেলে পারিবারিক জমি সংক্রান্ত পুরনো বিরোধের জেরে ছোট ভাই আব্দুল হান্নানের ছেলে রহমতউল্লাহ ধারালো দা দিয়ে আব্দুল মান্নান ও তার স্ত্রী ফুলি বেগমকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।
তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়।
ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু:
রবিবার দিবাগত রাতে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল মান্নান মারা যান। স্ত্রী ফুলি বেগম এখনও ঢামেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রশাসনের বক্তব্য:
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রহমতউল্লাহ পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।”
রাজনৈতিক পরিবেশে শোক:
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক স্থানীয় বিএনপি নেতা বলেন,
“মান্নান ভাই শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, তিনি এলাকার একজন অভিভাবক ছিলেন। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আমরা মেনে নিতে পারছি না।”
বাংলাদেশে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। তবে একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতার এমন করুণ পরিণতি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পারিবারিক ঘটনা নয় — এটি রাজনৈতিক, সামাজিক এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও দেখছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া কতটা কার্যকর হয় এবং কত দ্রুত পরিবারটি ন্যায়বিচার পায়।