তারিখ: ১ আগস্ট ২০২৫
মনিরামপুরে ‘খেলনা পিস্তল’ সহ গ্রেপ্তার—যুবদলের সংশ্লিষ্টতা নেই, বরং আওয়ামী লীগ নেতার পুত্র পলাতক
সংবাদদাতা: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
যশোরের মনিরামপুরে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম নিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মনিরামপুর পৌর শহরের গরুর হাটখোলা মোড়ে ‘রজনী নিবাস’ হোটেল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে একটি খেলনা পিস্তল এবং একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—গাংড়া এলাকার আলম খান (৪৮), দুর্গাপুরের শামীমুর রহমান টুটুল (৪৩), কদমবাড়িয়ার সাইফুল ইসলাম (৫০), এবং খেদাপাড়ার আবু সিনহা (৪৫)।
পুলিশের দাবি: ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান জানান, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, ওই হোটেলের একটি কক্ষে বসে যশোর-চুকনগর মহাসড়কে যানবাহনে ডাকাতির পরিকল্পনা চলছিল। আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করি।”
হোটেলটির ব্যবস্থাপক ফয়সাল হুমায়ুন—যিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা গাউসুল মোস্তাকের ছেলে—অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধেও একই মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিএনপির ভাষ্য: “ব্যক্তির দায় দল নেবে না”
মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের দলীয় নির্দেশনা পরিষ্কার—কেউ যদি অপরাধে জড়িত থাকে, দল তার দায় নেবে না। তদন্ত হোক নিরপেক্ষভাবে। দল কোনো অপরাধীকে রক্ষা করবে না।”
তিনি আরও বলেন, “তবে যুবদলের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে অনেক সময় পরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পাতা হয়—এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত।”
যুবদলের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বার্তা
ঘটনার পরপরই যশোর জেলা যুবদলের সভাপতি এম. তামাল আহমেদ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা যশোর জেলা যুবদলের কোনো ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত নন। তারা যুবদলের সদস্য বা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত নন।”
তিনি আরও লিখেছেন:
“যুবদল একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আদর্শিক সংগঠন। আমাদের দলের কেউ অপকর্ম করলে আমরা দলীয় ও আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেই। কিন্তু দলীয় পরিচয় না থাকা সত্ত্বেও ‘যুবদল কর্মী’ বলে প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি খেলনা পিস্তল ও একটি চাকুর ওপর ভিত্তি করে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা কতটা যৌক্তিক। আবার হোটেলের মালিকপক্ষের রাজনৈতিক পরিচয় এবং অভিযানের সময় পলায়নের ঘটনা প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকেও উসকে দিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে আজ শুক্রবার আদালতে হাজির করলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে হোটেল মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ রয়ে গেছে।
জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে,
“সত্যতা যাচাই না করে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য করবেন না। গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন।”