ব্যক্তিগত শোকের দরিয়ায় ভাসছেন, তবুও দেশের তরে অবিচল; নতুন বছরে তারেক রহমানের ‘শান্তি ও সম্প্রীতির’ বার্তা
বিশেষ প্রতিবেদক | ঢাকা ১ জানুয়ারি, ২০২৬
ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহর। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন দেশের রাজনীতির এক মহীরুহ পরিবারে চলছে শোকের মাতম। গত ৩০ ডিসেম্বর চিরবিদায় নিয়েছেন দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ‘আপসহীন নেত্রী’ বেগম খালেদা জিয়া। জননী হারানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মাথায়, হৃদয়ের গভীরে জমাটবদ্ধ শোককে পাথর করে দেশবাসীর উদ্দেশে নতুন বছরের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে পরিচিত তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আগামীর রাষ্ট্র নায়ক জনাব তারেক রহমান তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এই বার্তাটি কেবল একটি প্রথাগত শুভেচ্ছা নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে মানবিকতা, দেশপ্রেম এবং এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের ইশতেহার। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার পর মায়ের মৃত্যুর এই কঠিন সময়েও দেশবাসীর প্রতি তার এই মমতা ও দায়িত্ববোধ সাধারণ মানুষের কাছে তাকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর
বার্তার শুরুতেই তারেক রহমান দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশিকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ও প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রণা একদিকে যেমন আমাদের বেদনার্ত করবে, অন্যদিকে নতুন বার্তা আমাদের উজ্জীবিত করবে। পুরনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন আশা ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময় এখন।” মায়ের মৃত্যুর শোককে ব্যক্তিগত গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে তিনি সেটিকে জাতীয় ঐক্যের শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান জানান।
‘ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়’: নতুন রাজনৈতিক দর্শন
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের বার্তায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল তার উদার ও ক্ষমাশীল মানসিকতা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উচ্চারণ করেন— “ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়; আসুন ভালোবাসা, পরমতসহিষ্ণুতা, শান্তি ও সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে তুলি।” রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দীর্ঘ সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে তিনি একটি ‘ইনক্লুসিভ’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যেখানে মানুষের নাগরিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতা থাকবে সুরক্ষিত।
গণতন্ত্র ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকার
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রতিটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ হবে স্বাধীন। পরাজিত অপশক্তি জনগণের অধিকারকে এতদিন বন্দী করে রেখেছিল। এখন সময় হয়েছে সকল গণতান্ত্রিক শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার করা।”
মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার
নতুন বছরে তারেক রহমানের মূল লক্ষ্য হিসেবে ফুটে উঠেছে মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। তিনি বলেন, “অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়, উৎপীড়ন ও নির্যাতন।” ১লা জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়, সেই ঐতিহ্যের পথ ধরে বাঙালি জাতিকে এগিয়ে নেওয়ার সম্মিলিত প্রয়াস চালাতে তিনি দেশবাসীকে উদাত্ত আহ্বান জানান।
দেশবাসীর আবেগ ও সম্মান
১৭ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরে মায়ের শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারা এবং তার দাফন সম্পন্ন করার পরদিনই জনগণের উদ্দেশে এমন পরিণত ও সংবেদনশীল বার্তা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই “ভালোবাসা ও শান্তির সমাজ” গড়ার ডাক বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
বার্তার শেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির মঙ্গল প্রার্থনা করে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ ধ্বনিতে তার বক্তব্য শেষ করেন। শোকাতুর হৃদয়েও দেশের প্রতি তার এই অবিচল নিবেদন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।