বেনাপোলে নতুন কাস্টমস কমিশনার খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন, বদলি ১১ কর্মকর্তার রদবদল: এনবিআরের অস্থির বাস্তবতায় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
বেনাপোল, ১৬ জুলাই ২০২৫
কাস্টমস বিভাগে চলমান অস্থিরতা ও শৃঙ্খলাভঙ্গ পরিস্থিতির মধ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল কার্যকর করেছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বেনাপোল কাস্টমস হাউসসহ সারাদেশে ১১ জন কাস্টমস কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন খালেদ মোহাম্মদ আবু হোসেন।
তিনি পূর্বে ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিজ্ঞ এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা এর আগে কাস্টমস ও ভ্যাট প্রশাসনে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। এনবিআরের তরফে জানানো হয়, বদলির এ সিদ্ধান্ত জনস্বার্থে নেওয়া হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর।
বেনাপোলের সাবেক কমিশনারের অবস্থা অনিশ্চিত
প্রতিস্থাপিত কমিশনার মো. কামরুজ্জামানকে নতুন কোনো দপ্তর এখনও বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে তার নাম থাকলেও পরবর্তী পদায়নের বিষয়টি অনির্দিষ্ট রয়ে গেছে, যা এ মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বদলি হওয়া অন্যান্য কমিশনাররা কে কোথায়
এনবিআরের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, যেসব কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে তারা হলেন:
মো. আবদুল হাকিম, রাজশাহী কাস্টমস থেকে বদলি হয়ে পানগাঁও কাস্টমস হাউজে।
জুয়েল আহমেদ, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (NSW) প্রকল্পের পরিচালক থেকে ঢাকা দক্ষিণ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে।
এ কে এম নুরুল হুদা আজাদ, চট্টগ্রাম কাস্টমস ট্রেনিং একাডেমি থেকে ঢাকা শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরে।
মো. মাহফুজুল হক ভূঞা, কুমিল্লা কাস্টমস থেকে চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে।
খন্দকার নাজমুল হক, ঢাকা-২ কাস্টমস থেকে গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগে মহাপরিচালক।
ড. আবু নুর রাশেদ আহম্মেদ, রংপুর কাস্টমস থেকে চট্টগ্রাম ট্রেনিং একাডেমিতে।
অরুন কুমার বিশ্বাস, গবেষণা অনুবিভাগের মহাপরিচালক থেকে রংপুর কাস্টমস হাউসে।
প্রশাসনিক রদবদলের পেছনে অসন্তোষ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ?
এ রদবদলকে কেন্দ্র করে এনবিআর মহলে চলছে নানা গুঞ্জন। সম্প্রতি কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলির আদেশ অমান্য করা, প্রজ্ঞাপন প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলা, এমনকি চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে কর্মবিরতি পালনের অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবাদে জড়িয়ে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে এনবিআর। মঙ্গলবারের আরও একটি আদেশে আয়কর ও শুল্ক বিভাগের ১৪ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, এসব কর্মকর্তারা “এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ” নামে একটি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তাদের বরখাস্তের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং জাতীয় বাজেট পরবর্তী প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষার প্রয়াসও কাজ করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
নিকট ভবিষ্যতে আরও রদবদলের ইঙ্গিত
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, বদলিকৃত কর্মকর্তারা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে বহাল থাকবেন। তবে এনবিআর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, আগামী সপ্তাহে আরও এক ধাপে বড় পরিসরে বদলি আসতে পারে।
—
বিশ্লেষণমূলক মন্তব্য:
এই বদলির ঘটনা প্রমাণ করে, এনবিআরের অভ্যন্তরীণ চাপে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই রদবদল যথেষ্ট হবে কিনা, তা নির্ভর করবে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উপর।