ডেস্ক রিপোর্ট :বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় শার্শার উলাশীতে মহাসমাবেশের মতো দোয়া মাহফিল
জনতার ঢল, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে রামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠ উপচে পড়ে
বিএনপি চেয়ারপার্সন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের রামপুর প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল দোয়া মাহফিল।
এক কথায়—এটি ছিল শুধু একটি দোয়া মাহফিল নয়, পুরো এলাকা যেন পরিণত হয়েছিল দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য সমবেত প্রার্থনাময় মানবসমুদ্রে।
বুধবার দুপুর থেকেই সাধারণ মানুষ, স্থানীয় নেতাকর্মী, নারী-পুরুষ, প্রবীণ ও তরুণসহ হাজারো মানুষ দোয়া মাহফিলস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। পুরো মাঠ এবং তার বাইরের রাস্তা, দোকানপাট ও বাড়িঘরের সামনে মানুষের ঢল নেমে আসে। আবেগে ভেসে যায় পুরো উলাশী ইউনিয়ন।

মাহফিলের সভাপতিত্বে ছিলেন আব্দুল হামিদ — সঞ্চালনায় রুহুল আমিন
দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ।
সঞ্চালনা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণ করে বলেন—
> “দেশ মাকে আজ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে হচ্ছে। তার সুস্থতা শুধু বিএনপির নয়, বাংলাদেশের সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের কামনা।”
তারা আরও বলেন,
> “যে নেত্রী সারাজীবন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও দেশপ্রেমের সংগ্রাম করেছেন—আজ তার জন্য দোয়া করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব!
উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতিতে মাহফিল আরও বর্ণিল হয়
দোয়া মাহফিলে শার্শা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা একত্রিত হন। উপস্থিত ছিলেন—
উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহির
সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন
সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু
এই তিন নেতার উপস্থিতি পুরো আয়োজনে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। তারা বক্তৃতায় বলেন—
> “বেগম খালেদা জিয়াই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সর্বশেষ প্রতীক। আজ তার সুস্থতা না হওয়া পর্যন্ত পুরো জাতি উদ্বিগ্ন।”

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন—
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টু
বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখতারুজ্জামান
সহ-সভাপতি আতিকুজ্জামান সনি
শ্রমিক সম্পাদক শহীদ আলী
দপ্তর সম্পাদক সাইদুর জামান
এ ছাড়াও যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
—
মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—দোয়া মাহফিল রূপ নেয় মানবপ্রবাহে
দোয়া মাহফিলে যে পরিমাণ মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে, তা কার্যত একটি রাজনৈতিক মহাসমাবেশের চেয়ে কম নয়।
অনেকে পরিবার নিয়ে হাজির হন
কেউ ফুল নিয়ে আসেন
কেউ জায়নামাজ হাতে নিয়ে দোয়া করেন
অনেক নারী দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে আসেন
শিশুরাও দলবদ্ধভাবে অংশ নেয় দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করতে।
এলাকার প্রবীণ সমাজের একজন বলেন—
> “আমি খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করতে এসেছি। তিনি দেশের মা। তার সুস্থতা দেশেরই কল্যাণ।”
—
বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত
মাহফিলের শেষাংশে মাওলানা মো. আলী আকবর পরিচালিত বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দোয়ার সময় উপস্থিত অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। দেশনেত্রীর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে আল্লাহর কাছে তার রহমত কামনা করা হয়।
মোনাজাতে দেশ, জাতি, দল ও দেশের ভবিষ্যতের শান্তির জন্যও দোয়া করা হয়।
—
বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য
বিএনপির মিডিয়া সেলে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টে এই দোয়া মাহফিলের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং প্রবাসী থেকে দেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর সুস্থতা কামনায় প্রতিক্রিয়া জানান।
—
ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া
দোয়া মাহফিল শেষে নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন—
> “এ দোয়া মাহফিল কেবল শুরু। প্রয়োজন হলে আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে, প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ওয়ার্ডে দোয়া মাহফিল করবো। দেশনেত্রী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রার্থনা থামবে না।”