“বিএনপির তো সরকার নেই, ব্যবস্থা নেবে কে?” — সম্পত্তি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তারেক রহমানের প্রশ্ন এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার অভাব
রিপোর্ট: বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ ডেস্ক
ঢাকা, ১২ জুলাই ২০২৫
সম্পত্তি বাংলাদেশে দুইটি রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি সুপরিকল্পিত প্রপাগান্ডা এখন ছড়ানো হচ্ছে — যার মূল লক্ষ্য বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে হেয় করা। অথচ, এই দুইটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি বৈধ সরকারের শাসনামলে, একটি সক্রিয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১২ জুলাই এক ভার্চুয়াল বক্তব্যে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দিকনির্দেশনার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
তিনি বলেন
“বিএনপিতো সরকার চালায় না, তাহলে সরকার কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে?”
তার এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে বর্তমান রাষ্ট্রের বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং দুর্বৃত্তদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়ার প্রবণতা।
প্রপাগান্ডার কারিগর কারা?
সম্পত্তি বাংলাদেশের নামে ছদ্মবেশী রাজনৈতিক সংগঠন বর্তমানে দুইটি হত্যাকাণ্ডকে ব্যবহার করে যে ধরনের ভিডিও, পোস্ট ও মিথ্যা বয়ান ছড়াচ্ছে, তার গভীরে রয়েছে জামাত-এনসিপি ঘরানার একটি কৌশলগত নকশা। উদ্দেশ্য একটাই — বিএনপিকে রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে দাঁড় করানো, তারেক রহমানের নৈতিক নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং জাতীয়তাবাদী কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা।
এটি কেবল গণমাধ্যমের ‘ঘোলাপানি’ নয়, বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ‘মানসিক অপারেশন’।
—
⚖️ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোথায়?
তারেক রহমান স্পষ্ট করে দিয়েছেন — বিএনপি এখন বিরোধী দল, যাদের হাতে প্রশাসন, পুলিশ, গোয়েন্দা, বিচার বিভাগ বা থানা নেই। তাহলে হত্যাকাণ্ড ঘটলে রাষ্ট্র কীভাবে বিএনপিকে দায়ী করতে পারে?
তিনি বলেন,
> “যারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের ধরার দায় সরকারের। কিন্তু আমরা দেখছি, সরকার উল্টো আমাদের দিকেই আঙুল তুলছে — এটা কি তাদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা নয়?”
সিনেমার মত প্লট: ঘটনা না ঘটতেই খুনের দায় বিএনপির ওপর?
একাধিক ঘটনার তদন্তে দেখা যাচ্ছে — ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই সরকারঘনিষ্ঠ টিভি চ্যানেল, কিছু অনলাইন পোর্টাল এবং সরকারপন্থী সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টরা বিএনপিকে দায়ী করে প্রচারণা চালিয়েছে। এমনকি কোন মামলার তদন্তও শুরু হয়নি তখন!
তাৎক্ষণিক এই ‘ফিক্সড রেসপন্স’ ইঙ্গিত করে যে ঘটনা হয়ত বাস্তব নয়, বরং বানানোও হতে পারে। বা ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপিকে দায়ী করার মাধ্যমে প্রাক-পরিকল্পিত রাজনৈতিক লাভ আদায় করাই মূল উদ্দেশ্য।
—
তারেক রহমানের রাজনৈতিক বার্তা:
তারেক রহমান শুধু আত্মপক্ষ সমর্থন করেননি, বরং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র ব্যবস্থার দিকেও দৃষ্টি দিয়েছেন। তিনি বলেন,
> “নেতৃত্ব চেয়ার বা টাইটেলে নয়— নেতৃত্ব জনগণের হৃদয়ে।
আপনার পেছনে যদি মানুষের ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সমর্থন না থাকে,
তাহলে আপনি নেতা নন, একজন একাকী…”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জনবিচ্ছিন্নতা এবং মেকি নেতৃত্বের মুখোশ খুলে দিয়েছেন।
—
সার্বিক মূল্যায়ন: কে দায়ী?
১. ঘটনার সময় রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল প্রশাসন — দায় তাদের।
২. যারা ‘সম্পত্তি’র নামে ভিডিও বানিয়ে হত্যাকাণ্ডের দায় বিএনপির ওপর চাপাচ্ছে — তারা তদন্তের আগেই ‘সাজানো কাহিনি’ ছড়াচ্ছে।
৩. সরকার যে দ্রুত বিএনপিকে টার্গেট করছে — এটা প্রমাণ করে, হয়ত হত্যাকাণ্ড সরকার জানতই, বা ব্যবহার করতে চায় রাজনৈতিক ফায়দার জন্য।
বিএনপি’র অবস্থান:
বিএনপি বারবার বলছে— তারা অহিংস, আইনানুগ এবং সাংবিধানিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যেকোন হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানায়, এবং চায় প্রকৃত দোষীরা আইনের আওতায় আসুক। কিন্তু বিএনপিকে দায়ী করার এই চেষ্টা মূলত রাষ্ট্রের দুর্বলতা এবং সরকারের গোপন পরিকল্পনারই প্রকাশ।
শেষ কথা:
তারেক রহমানের প্রশ্নটি রাজনৈতিক নয়, নৈতিক এবং নাগরিক সচেতনতার অংশ —
“আমাদের হাতে যদি কিছু না থাকে, তাহলে আমরা দায়ী কীভাবে হই? দায় তাদের, যারা রাষ্ট্র চালায়।”
এটি কেবল বিএনপির আত্মপক্ষ সমর্থন নয় — এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশে একটি নতুন ধারা, যেখানে দায়িত্ব, জবাবদিহি এবং সত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।