• বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৬ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনাম
গাজীপুরে মেট্রিক্স গার্মেন্টসে আগুন, ৬৭ জনকে জীবিত উদ্ধার আটতলা ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট যশোরে আওয়ামী লীগের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের প্রতিবাদে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হঠাৎ ‘স্যরি’ বলল প্রথম আলো, কেন এই ক্ষমা চাওয়া? সামনে এলো আসল কারণ কবিতা, কলম ও রাষ্ট্রচিন্তায় বহুমাত্রিক পথচলা: কবি অথই নূরুল আমিনের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও মানবিক উদ্যোগের বিস্তৃত অধ্যায় মাগুরায় যুবদল নেতা সাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ, জাপান সফরের সাফল্য ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা কেশবপুরে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যের ৬৮.৭৫ শতক জমি জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ: আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের দাবি, থানায় লিখিত অভিযোগ বেনাপোলে মাদক ও অপরাধ দমনে ওসি শহীদ তিতুমীরের কঠোর অবস্থান: যোগদানের পাঁচ দিনের মধ্যেই মাঠপর্যায়ে তৎপরতা, স্বস্তি ও আশার সঞ্চার সীমান্তবাসীর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘মনগড়া’ নিয়মে পাঠদান বন্ধের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা শিক্ষা কর্মকর্তার সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সক্ষম বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন মানসম্মত নেতৃত্ব, শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও জাতীয় ঐক্য: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের শ্রদ্ধাঞ্জলি

পুঁড়ছে দেশ, কাঁদছে মানুষ: দায় নেবে কে এই দেশের?

Reporter Name / ১৬২ Time View
Update : রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

পুঁড়ছে দেশ, কাঁদছে মানুষ: দায় নেবে কে এই দেশের?

মো. শাহজাহান বাশার,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,

বাংলাদেশ আজ এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই ভয়, আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা। কেউ জানে না, কখন কোথায় আগুন লাগবে, কে মারা যাবে, কার দোকান পুড়বে, কার স্বপ্ন ছাই হয়ে যাবে। পুড়ছে দেশ, কাঁদছে মানুষ। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—দায় নেবে কে এই দেশের?

গত কয়েক সপ্তাহে দেশের নানা প্রান্তে যে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট, আর সহিংসতার দৃশ্য দেখা গেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। ব্যবসায়ী হারিয়েছে জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, ছাত্র হারিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, কৃষক হারিয়েছে বাজারে যাওয়ার রাস্তা।
এই আগুনে শুধু ভবন বা দোকানই পুড়ে যায়নি—পুড়ে গেছে মানুষের বিশ্বাস, দেশের অর্থনীতি আর সমাজের শান্তি।

সবাই আজ রাজনীতি করছে, কিন্তু কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। একদল অন্য দলকে দোষ দিচ্ছে; সরকার বিরোধীদের দিকে আঙুল তুলছে, বিরোধীরা সরকারের দিকে। অথচ জনগণই দগ্ধ হচ্ছে—যে জনগণ এই দেশকে টেনে নিয়ে চলেছে দিনের পর দিন।রাজনীতি আজ মানবতার ঊর্ধ্বে উঠে গেছে। ক্ষমতার হিসাব-নিকাশে মানুষের কান্না যেন তুচ্ছ হয়ে পড়েছে।

যখন দেশ পুড়ছে, তখন প্রশাসন কি করছে? আগুন নেভাতে এসেছে, নাকি আরও আগুন ছড়ানোর সুযোগ দিয়েছে—এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাদের কাজ নিরাপত্তা দেওয়া, তারা যদি নির্লিপ্ত থাকে, তাহলে জনগণ কোথায় যাবে? রাষ্ট্র যখন জনগণকে রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেই রাষ্ট্রের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

গণমাধ্যম আজও সাহসী কণ্ঠ হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, কিন্তু চাপ, ভয় আর নানা বাধার কারণে সেই কণ্ঠ কখনও মিইয়ে যায়। অথচ জনগণের চোখ- কান- মুখ হিসেবে সাংবাদিকদেরই বলা উচিত—“এই আগুনের পেছনে কারা? কারা এ দেশকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে?”

যখন মানুষ বাঁচার জন্য নিরাপত্তা খোঁজে না, বরং বাঁচার জন্য ভীত থাকে—তখন বুঝতে হয়, সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। পুড়ে যাওয়া দোকানের পাশে কাঁদছে ব্যবসায়ী, পুড়ে যাওয়া বইয়ের পাশে বসে আছে ছাত্র।
দেশের অর্থনীতি ক্রমেই ভঙ্গুর হচ্ছে। শিক্ষার মান হারাচ্ছে তার নৈতিক ভিত্তি। আর এই ভাঙন যদি এখনই রোধ না করা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপেক্ষা করছে এক অনিশ্চিত অন্ধকার।

আমরা ভুলে যেতে পারি না—এই দেশ আমাদের, এই মানুষ আমাদের। রাজনীতি, ক্ষমতা, দল, মত—সবকিছুর ঊর্ধ্বে আছে দেশ ও মানবতা।এখনই সময় রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের আত্মসমালোচনার। এখনই সময় প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার। এখনই সময় মানুষের কান্না থামানোর।অন্যথায় ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এই পুড়ে যাওয়া দেশ একদিন প্রশ্ন করবে—“তোমরা কোথায় ছিলে যখন আমি জ্বলছিলাম?”

বাংলাদেশের প্রতিটি অগ্নিকাণ্ড, প্রতিটি কান্না, প্রতিটি ক্ষত—একটি করে দায়ের প্রশ্ন তোলে। কিন্তু সেই দায় আজও কেউ নেয় না। অথচ, যদি আমরা সবাই একটু দায়িত্বশীল হই, মানবতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই—তাহলেই হয়তো এই দেশ আরেকবার বাঁচবে।

 


More News Of This Category
bdit.com.bd