রিপোর্ট নাজমুল হাসান :
বাগেরহাটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও ৯ মাসের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ভয়াবহ সত্যকে সামনে এনেছে— আওয়ামী লীগ তার কর্মীদের কেবল ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করতেই জানে, বিপদে তাদের পাশে দাঁড়াতে জানে না।
শীর্ষ নেতাদের ভোগবিলাস, তৃণমূলের হাহাকার
দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন শেখ তন্ময়ের মতো প্রভাবশালী নেতাদের আজ্ঞাবহ হয়ে সাদ্দামরা রাজপথে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম, গুম আর টেন্ডারবাজিতে মেতে থাকা এই কর্মীদের ওপর ভিত্তি করেই বড় নেতারা হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর যখন কর্মীরা জেলে বা আত্মগোপনে, তখন সেইসব ‘প্রভাবশালী’ নেতাদের কাউকেই পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। সাদ্দামের স্ত্রী স্বর্ণালী মাত্র এক বছর স্বামীর অনুপস্থিতি ও অভাব সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, অথচ যাদের হয়ে সাদ্দাম অপরাধ করেছিলেন, তারা আজ বিদেশে বা নিরাপদ আশ্রয়ে আয়েশ করছেন।
আওয়ামী রাজনীতির ‘ইউজ অ্যান্ড থ্রো’ সংস্কৃতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ সবসময়ই কর্মীদের ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। ক্ষমতায় থাকতে তাদের দিয়ে জুলাই বিপ্লবের মতো নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, কিন্তু ক্ষমতা হারানোর পর সেই কর্মীদের পরিবারের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজনও মনে করেনি। সাদ্দামের স্ত্রী-সন্তানের এই করুণ মৃত্যু প্রমাণ করে যে:
নেতাদের স্বার্থই বড়: তৃণমূল কর্মীরা মরুক বা না খেয়ে থাকুক, নেতাদের তাতে কিছু যায় আসে না।
অর্থনৈতিক অবহেলা: যে নেতারা দেশের সম্পদ লুট করেছেন, তারা চাইলে তাদের অনুসারী পরিবারগুলোর দায়িত্ব নিতে পারতেন। কিন্তু তারা নিজেদের চামড়া বাঁচাতে ব্যস্ত।
মানুষের ঘৃণা ও আওয়ামী বিমুখতা
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলছেন, যারা ১৬ বছর ধরে হাজার হাজার মায়ের বুক খালি করেছে, আজ তাদের নিজেদের কর্মীরাই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অবহেলার শিকার। সাদ্দাম একজন ‘দুর্ধর্ষ ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত হলেও তার স্ত্রী-সন্তানের এই পরিণতি দেখে সাধারণ কর্মীরাও এখন আতঙ্কিত। তারা বুঝতে পারছে, আওয়ামী লীগের রাজনীতি মানেই হলো নেতাদের জন্য পাপ করা এবং বিনিময়ে নিজের পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।
সাদ্দামের স্ত্রীর আত্মহত্যা কেবল একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, এটি আওয়ামী লীগের আদর্শিক দেউলিয়াপনার দলিল। দলের কর্মীদের এখন উপলব্ধি করার সময় এসেছে—যাদের নির্দেশে তারা মানুষের ওপর অত্যাচার করছে, সেই নেতারাই বিপদের দিন তাদের চিনবে না। আওয়ামী লীগের এই ‘কর্মী-ভক্ষণ’ রাজনীতির কারণেই আজ দলটির ওপর থেকে মানুষ এবং খোদ তাদের অনুসারীরাই আস্থা হারিয়ে ঘৃণা করতে শুরু করেছে।