৩১ জুলাই ২০২৫
জনতার কন্ঠস্বর ডেস্ক রিপোর্ট
নাহিদ-সাদিক বিতর্কে জুলকারনাইন সাইরকে ‘কচুক্ষেতি’ বলায় বিস্ফোরিত সমালোচনা: এনসিপি কি হাসিনার মতো স্বৈরাচার হওয়ার পথে?
আব্দুল্লাহ আল শাফিলের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) এবং এর কিছু সহযোগী ব্যক্তিত্ব নিয়ে। মূল বিতর্ক ঘনীভূত হয়েছে একাধিক বিষয়কে কেন্দ্র করে—জাতীয় সরকার প্রশ্নে অবস্থান, অভ্যন্তরীণ দ্বিচারিতা, এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর অংশ—প্রখ্যাত সাংবাদিক জুলকারনাইন সাইরকে ঘিরে ব্যঙ্গাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য।
আব্দুল্লাহ আল শাফিল তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে নাহিদ ইসলাম ও Md Abu Shadik-কে চিনেন। সে সূত্রেই তিনি কিছু ‘ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা’ তুলে ধরেন, যা দলের অভ্যন্তরীণ ভণ্ডামি ও দ্বৈত মানসিকতার ইঙ্গিত বহন করে।
প্রথমেই তিনি উল্লেখ করেন, নাহিদ ইসলাম শুরুতে বিএনপির জাতীয় সরকার গঠনের বিরোধিতা করলেও পরে ওয়াকার সাহেবের ক্ষমতা গ্রহণকে ঢালাওভাবে বৈধতা দিতে ‘এক্সপোজার নাটক’ চালান। তিনি দাবি করেন, সাদিক কাইয়্যুমকে লক্ষ্য করে করা সমালোচনাটি ছিল কৌশলগত; যেন ক্ষোভ না দেখিয়ে পরিস্থিতি সুষম প্রতিক্রিয়ার মতো মনে হয়।
আব্দুল্লাহ আরও বলেন, “দেশ ‘গুরুবার’ থেকে স্বাধীন” বা “ডানদের ডিসিশনের গুরুত্ব ছিল না” জাতীয় মন্তব্যগুলো সাধারণ মানুষের কাছে হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, “এই জাতি এসব বিশ্বাস করবে না, নাহিদ ভাই নিজেও জানেন।”
আরো বিতর্ক তৈরি হয়েছে নাহিদ ইসলামের বিরুদ্ধে ‘মাদ্রাসা-বিদ্বেষী’ হিসেবে প্রচার চালানোর অভিযোগে। আব্দুল্লাহ এই অভিযোগও অস্বীকার করে বলেন, নাহিদ নিজেই সাবেক মাদ্রাসা ছাত্র এবং শুরুতেই তা শাফিলকে বলেছিলেন। সুতরাং এই গুজবগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, তিনি NCP-র পদ থেকে সরে যান মূলত কিছু ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিকে দলীয় ফ্রন্ট ফেস বানানোর কারণে। যদিও তিনি নাহিদ, আসিফ, জারা ও হাসনাতকে পছন্দ করেন, কিন্তু দলের আদর্শহীন অবস্থান তাকে বিব্রত করেছিল।
পরবর্তীতে যখন জানেন যে NCP জামায়াতের বিকল্প নয় বরং জিয়াউর রহমানের সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকতে চায় এবং নতুন ডানপন্থী ছাত্র জোট UP Bangladesh গঠন করে, তখন কিছুটা আস্থা ফিরে আসে।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশে আব্দুল্লাহ প্রশ্ন ছুড়ে দেন—নাহিদ ইসলাম ও সাদিক কাইয়্যুম কি সত্যিকারের প্রতিপক্ষ, না আদর্শিকভাবে পরিপূরক? অথবা আসল প্রতিপক্ষ কি সেই সব গোষ্ঠী, যারা জিয়ার সংবিধান চায় না, যারা জাতীয় সরকারের বিরোধী এবং ওয়াকার বা জুলকারনাইনের মতো চরিত্রকে সামনে এনে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায়?
এই অংশেই সবচেয়ে আপত্তিকর মন্তব্যটি উঠে আসে—জুলকারনাইন সাইরকে ব্যঙ্গ করে ‘কচুক্ষেতি’ আখ্যা দেওয়া হয়। এবং এখানেই বিস্ফোরণ ঘটে জনমনে। কারণ জুলকারনাইন কেবল একজন সাংবাদিক নন, বরং বাংলাদেশে প্রথম সারির একজন বিবেকবান সংবাদকর্মী হিসেবে তিনি পরিচিত। শেখ হাসিনার দমননীতি, ছাত্রনেতা হত্যাকাণ্ড, সেনা-নির্ভর রাজনীতি—এসব বিষয়ে সাহসিকতার সঙ্গে মুখ খুলেছেন এই সাংবাদিক। তাঁকে ‘কচুক্ষেতি’ বলার মানে দেশের সত্যভিত্তিক সাংবাদিকতাকেই তাচ্ছিল্য করা।
এই ঘটনায় বহু পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন, এনসিপির আচরণ ক্রমেই শেখ হাসিনার দমননীতির প্রতিফলন হয়ে উঠছে। একদিকে মুখে ‘গণতন্ত্র’ আর ‘জাতীয়তাবাদ’—অন্যদিকে সামান্য সমালোচনাতেও প্রতিশোধমূলক কৌশল, বিভ্রান্তিমূলক প্রচার এবং সাংবাদিকদের অপমান। পার্থক্য কোথায়? বরং উপস্থাপনের ভিন্নতা ছাড়া প্রবণতা একই রকম।
এই প্রশ্ন এখন ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—NCP আদৌ কি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী? নাকি এটি আরেকটি মুখোশধারী কর্তৃত্ববাদী দলের সূচনা?
জনমনে এইসব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট না হলে, ভবিষ্যতে NCP নিজের অস্তিত্বকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। আর যারা জুলকারনাইন সাইরের মতো কণ্ঠস্বরকে অপমান করে, তারা জাতীয় নেতৃত্ব নয়—তারা স্বৈরাচারীদের প্রতিচ্ছবি।
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন সময় এসেছে—সবাইকে মুখোশ ছুঁড়ে ফেলে, সত্যভিত্তিক নেতৃত্ব ও আদর্শকে সামনে আনতে।
তথ্যসূত্র: আব্দুল্লাহ আল শাফিল-এর ফেসবুক পোস্ট, এবং সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষণ।