নরসিংদীর বেলাবতে এনসিপির সফরসঙ্গী বিএনপি নেতা, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তোলপাড় — কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি
নরসিংদী, ৩০ জুলাই ২০২৫:
জনতার কন্ঠস্বর ডেস্ক :
বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নরসিংদীর বেলাবো উপজেলায় দলে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নৈতিক বিচ্যুতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছেন আমলাব ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খলিলুল্লাহ তপন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ নেতাদের সাথে ঘুরতে গিয়ে প্রকাশ্যে ধরা পড়ার পর তার বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া।
ঘটনার সূত্রপাত আজ, ৩০ জুলাই বুধবার, যখন ওয়ারী বটেশ্বর এলাকায় এনসিপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সফরসঙ্গী হিসেবে দেখা যায় খলিলুল্লাহ তপনকে। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। দলের বিপরীত ধারার রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠতা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বেলাবো উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব বিপ্লব তাকে আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিক অংশ।
তপনের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগের ফিরিস্তি
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর থেকে বটেশ্বর ও আশপাশের এলাকায় খলিলুল্লাহ তপন জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধে। বটেশ্বর বাজারে নিজের ছবি ও নামসহ সাইনবোর্ড লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এছাড়া, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ভুয়া কমিটি গঠন করে সহ-সভাপতি, সহ-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদ বিক্রির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দলের প্রোগ্রামের নামে একাধিকবার চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে।
অতীতে তার বিরুদ্ধে চুরির ঘটনায় জনগণের হাতে ধরা পড়ে কান কাটা পড়ারও ইতিহাস রয়েছে, যার কারণে এলাকায় তিনি “কানকাটা তপন” নামে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, তপনের হঠাৎ অর্থবিত্তের উত্থানও সন্দেহজনক। সংস্কারপন্থী নেতা সর্দার শাখাওয়াত হোসেন বকুলের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে দলের ভেতরে একপ্রকার প্রভাব বিস্তার করলেও, মূলত দুর্নীতি ও প্রতারণাই তার মূল চালিকাশক্তি।
কিছুদিন আগে ওয়ারি গ্রামের এক বাসিন্দাকে আর্থিক বিরোধের জেরে অপহরণে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী পরে উদ্ধার হলেও, অভিযুক্ত হিসেবে তপনের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
বহিষ্কারের দাবিতে উত্তাল বেলাবো ও আমলাব

এইসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা এখন একাট্টা। বেলাবো ও আমলাব ইউনিয়নজুড়ে খলিলুল্লাহ তপনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে।
নেতাকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের বিতর্কিত, অপরাধপ্রবণ এবং দলবিরোধী আচরণ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। খলিলুল্লাহ তপনের বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে জবাব সন্তোষজনক না হয়, তাহলে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হতে পারে।