তারিখ: ২ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ প্রথম সংবাদ | জনতার কণ্ঠস্বর
“ছবি তুলে নেতা নয়, অপকর্ম করলে জেল”—ইশরাক হোসেনের হুঙ্কার
দলীয় নাম বা সম্পর্ক দেখিয়ে কেউ চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অপকর্ম করলে জনগণকেই রুখে দাঁড়াতে হবে—বিএনপি নেতার কড়া বার্তা
রাজনীতিকে ঢাল বানিয়ে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা দক্ষিণের সাবেক মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন—ছবি তুলে কেউ নেতা হয় না, বরং কেউ যদি সেই ছবি বা পরিচয়কে অপব্যবহার করে অপরাধমূলক কাজ করে, তবে সেটা জনগণকেই প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি লিখেছেন,
“আমরা রাজনীতি করি। যেকোনো জায়গায় সাধারণ মানুষ এসে আমাদের সাথে ছবি তোলে। এটা তাদের ভালোবাসা। কিন্তু আমাদের দলীয় নেতাকর্মী অথবা অন্য যেকোনো কেও যদি সেই ছবি দেখিয়ে কোথাও কোনও ধরনের চাঁদাবাজি, অপকর্ম, প্রভাব বিস্তার অথবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়, তাহলে জনগণকে তা প্রতিরোধ করতে হবে। দুর্বল হলেও, সাহস করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইশরাক হোসেনের এই বক্তব্য কেবল একটি স্ট্যাটাস নয়, এটি দলীয় শুদ্ধি অভিযানের অংশ। বিএনপির তরুণ প্রজন্মের এই নেতার বার্তাটি একদিকে যেমন নৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন, তেমনি দলের ভিতরে ও বাইরে সক্রিয় থাকা কিছু চক্রের প্রতি একপ্রকার হুঁশিয়ারি।
ইশরাক আরও বলেন,
“দলীয় পরিচয় বা কারও সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে কেউ যদি মানুষকে হয়রানি করে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা অপরাধে লিপ্ত হয়—তাহলে সেটা রাজনৈতিক প্রতারণা। বিএনপি কখনো এমন কিছু বরদাশত করে না, করবেও না।”
সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় কিছু অপরাধচক্র রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগে আলোচিত। এই প্রেক্ষাপটে ইশরাক হোসেনের বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে পরিষ্কার করল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তিনি তার বার্তায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছেন—সাধারণ মানুষকে সাহস দেখাতে হবে, ভয় না পেয়ে প্রতিবাদ করতে হবে। তিনি বলেন,
“দলীয় নাম, ছবি কিংবা সম্পর্ককে কেউ যদি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে, তবে জনগণকে সবার আগে তাকে প্রতিহত করতে হবে। দুর্বল হলেও, সাহস নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া উচিত।”
এই বক্তব্যে রাজনীতির গা-জোয়ারি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক ধরনের রাজনৈতিক নৈতিকতার বার্তা স্পষ্ট। বিএনপির পক্ষ থেকে এমন অবস্থান দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে অনেকে মনে করছেন।